বরেণ্য নির্মাতা ও নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু পরিচালিত সিনেমা ‘আলফা’ প্রদর্শিত হয়েছে রাজধানীর শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে। পরে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন অতিথি ও দর্শকরা।
বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের উদ্যোগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা অ্যাকাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘আলফা’র প্রদর্শনী এবং মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে শিল্পকলা একাডেমি। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল ‘আলফা’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী। গোটা মিলনায়তন দর্শকশ্রোতায় তখন পূর্ণ। নানা বয়সের মানুষ আগ্রহ নিয়ে এ চলচ্চিত্র দেখে। পরে অংশ নেয় মুক্ত আলোচনায়।
‘আলফা’ নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত তৃতীয় চলচ্চিত্র। এর আগে তিনি ‘একাত্তরের যীশু’ এবং ‘গেরিলা’ নামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দু’টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
তৃতীয় বিশ্বের একজন নাগরিককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ‘আলফা’ সিনেমার কাহিনী। যান্ত্রিক শহরের বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং অন্তর্দ্বন্দ্বে বেঁচে থাকা এক চিত্রশিল্পীর জীবন-ই আলফার মূল উপজীব্য। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আলমগীর কবির। আরো অভিনয় করেছেন দোয়েল ম্যাশ, এটিএম শামসুজ্জামান, হীরা চৌধুরী, ইশরাত নিশাত প্রমুখ।
প্রদর্শনী শেষে চলচ্চিত্রে কলাকুশলীদের নিয়ে মঞ্চে আসেন নির্মাতা ও নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। পরে তিনি দর্শকশ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
আষাঢ়ের নব আনন্দ
বর্ষাকে স্বাগত জানিয়ে বর্ষার কিছু প্রাণছোঁয়া গান নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা অ্যাকাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘আষাঢ়ের নব আনন্দ’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। আয়োজক রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী কলিম শরাফীর হাতে গড়া গানের সংগঠন সংগীত ভবন।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সংগীত ভবনের শিল্পীদের সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। তারা পরিবেশন করেন ‘বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে’ গানটি। এরপর একক গান পরিবেশন করেন সীমা সরকার। তিনি পরিবেশন করেন ‘হেরিয়া শ্যামল ঘন নীল গগনে/ সেই সজল কাজল আঁখি পড়িল মনে’ গানটি। তার এই গান রেশ কাটতে না কাটতে মঞ্চে আসেন সুপর্না দে ও তাহমিনা তনু গেয়ে শোনান ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদরদিনে/ জানি নে, জানি নে কিছুতে কেন যে মন লাগে না’। আমিনা আহমেদের কণ্ঠে শোনা গেলো দ্বিজেন্দ্রগীতি ‘বরষা আইল ওই ঘন ঘোর মেঘে’।
এরপর দ্বৈত কণ্ঠে সালেহ মোহাম্মদ খোকন ও নিবেদিতা হালদার পরিবেশন করেন ‘এসো নীপবনে ছায়াবীথি তলে’। রিফাত জামাল মিতু ‘আমার নিশীথরাতের বাদলধারা’, সর্ববানী চক্রবর্তী ‘ওগো তুমি পঞ্চদশী’, গোলাম মোস্তফা ‘আষাঢ় মাইসা ভাসা পানিরে’ ইত্যাদি গান গেয়ে শোনান।
দু’টি সমবেত, দু’টি দ্বৈত, দুইটি একক নৃত্য ও ১০টি একক গান দিয়ে সাজানো বর্ষা বিষয়ক মনোমুগ্ধকর এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা শুরু হয়েছিল সমবেত গানের মধ্য দিয়ে আর শেষও হয় সমবেত কণ্ঠে গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। সংগীত ভবনের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে গাইলেন ‘অম্বরে মেঘ মৃদঙ্গ বাজে’। তার আগে অনুষ্ঠানের সূচনাতেই সংগঠনের সভাপতি পীযুষ বড়ুয়ার জন্মদিন উপলক্ষ্যে তাকে সংগীত ভবনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।