দক্ষিণ কোরীয় প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়োন তিনদিনের সরকারি সফরে গতকাল শনিবার বিকালে বাংলাদেশ পৌঁছেছেন। একটি বিশেষ ফ্লাইটে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তিনি। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এরপর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অর্নার প্রদান করে। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের পর কোরীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের উদ্দেশে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। চার দেশ সফরের প্রথমভাগে বাংলাদেশে এসেছেন লি নাক-ইয়োন। বাংলাদেশের পর তিনি তাজিকিস্তান, কিরগিজিস্তান ও কাতার সফরে যাবেন।
ঢাকায় আসার পর গতকাল সন্ধ্যায় দক্ষিণ কোরীয় প্রধানমন্ত্রী হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকায় কোরীয় কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক নৈশভোজে অংশ নেন। আজ রবিবার সকালে সাভারে জাতীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবকের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই সরকারি সফরের কার্যক্রম শুরু করবেন। এরপর তিনি সাভার ইপিজেড এ ইয়াংওয়ান হাইটেক স্পোর্টসওয়্যার ও ঢাকার মুগদাপাড়ায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্স নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ-এ পরিদর্শন করবেন। একইদিন বিকালে কোরীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে (পিএমও) এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, দুপুরে লি ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এফবিসিসিআই ও কেআইটিএ আয়োজিত বাংলাদেশ-কোরিয়া বিজনেস ফোরামে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর কোরীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের সঙ্গে দেখা করবেন। সন্ধ্যায় তিনি হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আয়োজিত এক নৈশভোজে যোগ দিবেন।
আগামীকাল সোমবার ঢাকা ছাড়ার আগে, কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বেলা ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাবেন। কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাজাকিস্তানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
এদিকে কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাসসকে বলেন, আমরা নতুন পণ্য উত্পাদন করার জন্য তাদের (কোরিয়ান) বিনিয়োগের সন্ধান করবো, কারণ বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্য উত্পাদনে তাদের যথেষ্ট উদ্ভাবনী শক্তি রয়েছে। চট্টগ্রামের কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি উল্লেখ করে মোমেন বলেন, কেইপিজেডের পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করে কোরিয়ান প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঢাকা আরো বিনিয়োগের আহ্বান করবে। তিনি বলেন, আরো কোরিয়ান কোম্পানিকে আকৃষ্ট করার জন্য সেখানে বিশাল জমি বরাদ্দ করেছি (কেইপিজেড)। এছাড়া বাংলাদেশ আইসিটি খাতে আরো উন্নতির জন্য কোরিয়ান প্রযুক্তিগত সহায়তাও চাইবে। বাণিজ্য খাতের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও বাংলাদেশ কোরিয়ান সমর্থন চাইবে।