আড়াইহাজার টু পুরিন্দাবাজার সড়কটির অর্ধেকের কম কাজ করতেই পাঁচ বছর পার। আট কিলোমিটার সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের সংস্কার বাকি। সংস্কারবিহীন অংশের এমন বেহালদশা যে, রিকশা, অটো কিংবা সিএনজি কিছুই চলাচল করতে পারে না। ফলে আশপাশের দুটি ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষকে অশেষ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘুরতি পথে আড়াইহাজার উপজেলা সদরে যেতে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ এই সড়ক দিয়ে আধা ঘণ্টায় উপজেলা সদরে যাওয়া যায়। বিগত পাঁচ বছরে এলাকাবাসী রাস্তা সংস্কারের দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধন করেছে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আড়াইহাজার টু পুরিন্দাবাজার সড়কটি সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় এক সময়ের জমজমাট পুরিন্দাবাজারটির ব্যবসা কমে যাওয়ায় তা এখন বন্ধ হওয়ার পথে। গত তিন বছরে এই বাজারের অনেক পুরোনো ব্যবসায়ী দোকানপাট গুটিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে আড়াইহাজার উপজেলাবাসী আশায় বুক বেঁধে আছে যে, ফের আড়াইহাজার টু পুরিন্দাবাজার সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হবে।
আড়াইহাজার উপজেলায় এলজিইডির আওতায় নগর অঞ্চল প্রকল্প- ২ (সিআরডিপি) অনুযায়ী আড়াইহাজার সদর থেকে কামরানির চর হয়ে পুরিন্দাবাজার পর্যন্ত আট কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার দীর্ঘদিন আটকে আছে।
পুরিন্দা থেকে টেকপাড়া প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত রাস্তার করুণ দশা। ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। যা ২০২২ সালের ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। পাঁচ বছরে মাত্র তিন কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার হয়েছে।
পুরিন্দা গ্রামের বাসিন্দা ফরিদা আক্তার জানান, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে যায়। তাও দুই নাম্বার ইটসহ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। আমরা এলাকাবাসী এসবের প্রতিবাদ করলেও ঠিকাদার কোনো আপত্তি কানে তোলেনি। বারবার বলা সত্ত্বেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জনস্বার্থকে পায়ে দলে গেছে।
পুরিন্দাবাজারের কয়েক জন পুরোনো ব্যবসায়ী বলেন, আড়াইহাজার সদর বাজারের চেয়েও পুরিন্দা বাজার বেশি জমজমাট ছিল। পুরিন্দাবাজারের অধিকাংশ বড় ব্যবসায়ী চলে গেছে।
আড়াইহাজার এলজিইডির প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, এই রাস্তার জন্য নতুন করে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। ঐ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। তাই সিআরডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় সড়কের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, রাস্তার অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। তবে কবে নাগাদ শেষ হবে তা জানাতে পারেননি ঐ কর্মকর্তা।