‘বোবাদের বাড়ি’র ভাতা পান একজন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সহনাটি ইউনিয়নের পলটিপাড়া গ্রামের এক বাড়িতে ১১ জন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী রয়েছেন। তারা সকলেই পরস্পর আত্মীয়। বাড়িটি স্থানীয়দের কাছে ‘বোবাদের বাড়ি’ নামে পরিচিত। 

সরজমিনে, ওই বাড়িতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩০ জন বসবাস করেন। প্রতিবেশী গৃহবধূ জেসমিন আক্তার প্রতিবেদককে দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেন। 

জেসমিন আক্তার বলেন, এই বাড়ির তিনজন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারী হলেন, জাহের বানু (৪৫), চান বানু (৬৫) তাহের বানু (৫৫)। জাহের বানুর বিয়ে হয়েছে। কিন্তু সন্তান নেই। চান বানুর দুই ছেলে আবদুল মালেক (৩৩) ও আবদুল খালেক (৩৬)। তারও বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তাহের বানুর এক সন্তান সুস্থ ও স্বাভাবিক।

বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী এই নারীদের বিয়ে হলেও তারা বেশিদিন স্বামীর সংসার করতে পারেনি।শারীরিক সমস্যার কারণে স্বামীরা তাদের বাবার বাড়িতে রেখে গেছেন। তারা জীবন নির্বাহ করেছেন ভিক্ষা করে। 

এদিকে চান বানুর ছেলে আবদুল মালেকের তিন সন্তানের মধ্যে দুইজনই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। আরেক ছেলে আবদুল খালেকের তিন সন্তানের মধ্যে একজন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী।
 
প্রতিবেশীরা জানান, পরের জমিতে কাজ করে তাদের সংসার চলে। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেকেই তাদের কাজে নিতে চায় না।

অপরদিকে চান বানুর ভাই মো. মেরাজ মিয়া (৬৫) ও আবদুস সাত্তার (৫৫) বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। মেরাজ মিয়া বিয়ে করলেও স্ত্রী চলে গেছেন। আবুদস সাত্তারের এক সন্তান। সেও বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী।
 
এই ১১ জন প্রতিবন্ধীর মধ্যে কেবল আবদুস সাত্তার সরকারের প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও বঞ্চিত পরিবারের অন্য সদস্যরা। এ ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ।

আরও পড়ুন: হুমকির মুখে রাণীনগর-আত্রাইয়ের অভিভাবকহীন বাঁধ

জেসমিন আক্তার জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একাধিকবার তাদের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলে নিয়ে গেলেও তারা সরকারি কোনো ভাতা পাননি। 

বাড়ির অন্য সদস্যরা জানান, বাড়িতে নলকূপ নেই, শৌচাগার নেই। বসতঘর ভেঙ্গে পড়েছে। আয়ের হারও খুব কম। কোনো মতে আমারা দিনাতিপাত করছি। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রত্যেক পরিবারে একটি করে ভিজিডির কার্ড করে দিতে বলেছি। আর ভাতার জন্য সরকার নির্ধারিত বয়স না হলে ভাতা দেওয়া সম্ভব হয় না। বাকপ্রতিবন্ধীদের মধ্যে যাদের বয়স হয়েছে তারা যেন ভাতা পায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/অনি