ড্রেন-স্যুয়ারেজ পরিষ্কার না করায় জলাবদ্ধতা

খালের আবর্জনা অপসারণে দায়িত্ব এড়াতে এক সংস্থা দুষছে অন্যকে

রফিকুল ইসলাম রবি

চলছে বর্ষা মৌসুম। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে ঢাকার  সড়ক। অলিগলি-রাজপথ পানিতে করে  থই থই। ব্যবস্থাপনার বাইরে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য পানির সঙ্গে  মিশে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ডিঙিয়ে পথ চলতে হয় নগরবাসীকে। রাজধানীবাসীর এ দুর্ভোগ নতুন কিছু নয়। তবে দীর্ঘদিনের এ সমস্যা যেন দেখার কেউ নেই। সারা বছর ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন ও স্যুয়ারেজ লাইনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ময়লা-আবর্জনা, গৃহস্থালির বর্জ্য, কাদামাটি, নির্মাণ সামগ্রীর উচ্ছিষ্ট  মিশে অর্ধেকের বেশি ভরাট হয়ে যায়। এতে অচল হয়ে পড়ছে পয়ঃনিষ্কাশন   ব্যবস্থা। অথচ দায়িত্বে থাকা সেবা সংস্থাগুলো একে অপরকে দোষারোপে ব্যস্ত। সমপ্রতি ঢাকা ওয়াসার একটি খাল পরিষ্কার করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এভাবে এক সংস্থার কাজ করতে হচ্ছে আরেক সংস্থাকে।

জানা যায়, ঢাকায় দুই সিটির ২৭০০ কিলোমিটার খোলা ড্রেন এবং ৪৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ ব্যবস্থা আছে। আর ঢাকা ওয়াসার রয়েছে ৭২ কিলোমিটার খাল এবং বক্সকালভার্ট। এছাড়া সড়কগুলোতে দুই হাজারের মতো ক্যাচপিট রয়েছে। এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এর মধ্যে ময়লা-আবর্জনা জমে অর্ধেকের বেশি ক্যাচপিট বন্ধ হয়ে গেছে। আর ওয়াসার ড্রেনেজ পাম্পিং সিস্টেম থাকলেও এগুলো কোনো কাজেই আসে না। অন্যদিকে রাজধানীর কোনো কোনো জায়গার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানি নিষ্কাশনের পথগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে ঢাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যেত। বছরজুড়ে এগুলো পরিষ্কার করতে হবে। অন্যদিকে ভূ-গর্ভস্থ পানি শোষণ করার ক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। তারা যেন, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলেন। কারণ গৃহস্থালির বর্জ্য ড্রেনে গিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তবে ঢাকা ওয়াসা বলছে, তারা নিয়মিত খাল পরিষ্কার করে। এজন্য গত দুই বছরের মতো এবছর রাজধানীতে কোনো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।

সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসার মালিকানাধীন কল্যাণপুর ‘খ’ খাল পরিষ্কার করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) এ কে এম শহিদ উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, গত বছর সবগুলো খাল পরিষ্কার করা হয়েছে। এতে খালগুলোতে পানি ধারণ ক্ষমতা বেড়েছে।  এজন্য এ বছর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স-এর সাধারণ সম্পাদক নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মাহমুদ খান বলেন, ঢাকায় জলাবদ্ধতার বিষয়ে যে বিষয়টি আড়ালে থেকে যায় সেটি হলো অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে সর্বত্র কংক্রিটে ঢেকে যাচ্ছে। এর ফলে ভূ-গর্ভে পানি শোষণ করে নেওয়ার ক্ষমতা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে খাল, বিল ও ড্রেন দিয়ে পানি নদীতে যাওয়ার পথেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে পানি দ্রুত সরে যাওয়ার দুটি পথের একটিও কার্যকর নেই ঢাকায়। এ সমস্যা সমাধানে সিটি প্ল্যানিংয়ে পরিবর্তন আনা দরকার। শুধু প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, বিজ্ঞানসম্মত ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।