স্পোর্টস রিপোর্টার
টস যে জিতবেন তিনি ব্যাটিংই নেবেন — এমন একটা গুঞ্জন ফাইনালে বল মাঠে গড়ানোর আগে থেকেই ছিল। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন তাই টস জিতে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিতীয়বার ভাবলেন না। ব্যাটিংয়ে পাঠালেন দলকে। যদিও স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যানও বলে রেখেছিলেন আগে বোলিং করতে হলে কি করতে হয়, সেই ছকও তিনি এঁকে রেখেছেন।
আর প্রথম ইনিংস শেষে বলা যায় নিজেদের বোলিং পরিকল্পনায় পুরোপুরি সফল ইংল্যান্ড। ১৯৯২ সালের পর লম্বা বিরতি দিয়ে ফাইনাল খেলতে নেমেই আগুন ঝরানো বোলিং করেছেন ইংলিশ বোলাররা। তাতে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে করে ২৪১ রান। বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে বেশি নজর ছিল এই বিশ্বকাপের আবিষ্কার জোফরা আর্চারের দিকে। তবে ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভূত এই পেসার নয় বেশি দাপুটে বোলিং করেছেন দুই অভিজ্ঞ লিয়াম প্লাঙ্ককেট ও ক্রিস ওকস। দুজনই নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। এই দুজনের পারফরম্যান্সের সুবাদেই নিউজিল্যান্ডকে অল্পের মধ্যে আটকে রাখা গেছে।
ফাইনালের আগে নিউজিল্যান্ডের বড়ো দুশ্চিন্তা ছিল টপ অর্ডার। সেই দুশ্চিন্তার মূল কারণ ছিলেন মার্টিন গাপটিল। প্রথম ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি পাওয়ার পর গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই বলার মতো কোনো ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি তিনি। ফাইনালে শুরুটা ভালো হয়েছিল। কিন্তু ১৮ বলে ১৯ রান করেই থামতে হয় এই ওপেনারকে। গেল আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবার একদমই সাদামাটা পারফরম্যান্স করলেন।
দলীয় ২৯ রানের মাথায় এই গাপটিল চলে গেলেও এরপর অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে ভালোই দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন হেনরি নিকোলস। নিকোলস করেন ৫৫ রান। এটাই নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরি। দলীয় ১০৩ রানে দলের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন কেন উইলিয়ামসন। অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। তখন ২৩ তম ওভারের খেলা চলে।
এই অবস্থান থেকে দলের স্কোরটা যে অবস্থানে যাওয়ার কথা ছিল, সেটা আর হয়নি। কারণ, ইংল্যান্ডের বোলিং তোপের মুখে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবাই কম-বেশি ভালো সূচনা করেছিলেন, কিন্তু কেউই সেটা ধরে রেখে স্কোরটা বাড়িয়ে নিতে পারেননি। রস টেলর (১৫), টম ল্যাথাম (৪৭), জেমস নিশাম (১৯) কিংবা কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমদের (১৬) কেউ একজন বড়ো ইনিংস খেলতে পারলে হয়তো ইনিংসের চিত্রটা ভিন্ন হতো।