জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা দেখছে কোরিয়া

g ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশে কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ তালিকায় রয়েছে জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ ও সমুদ্রে মাছ শিকারসহ আরো কিছু খাত। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা সফররত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইয়ান এ আগ্রহের কথা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টসের বাইরেও পণ্য বহুমুখীকরণের জোর দিতে পারে বাংলাদেশ। কোরিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম নামে ঐ সভার আয়োজন করে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (কিটা)। এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সভাপতিত্বে ওই সভায় উভয় দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী বক্তব্য দেন।

এ সময় তিনি উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশার কথা জানিয়ে কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে দেশটির বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কোরিয়ান ইপিজেডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটিই দেশের সবচেয়ে বড়ো বেসরকারি ইপিজেড।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিদ্যুত্ সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকার দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগও অনেক বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উভয় দেশের বাণিজ্য বর্তমানে ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে কোরিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ২৫ কোটি ডলারের বিপরীতে আমদানি ১২৭ কোটি ডলার। বিনিয়োগ আকর্ষণে আলাদা ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্য সহজ করার নানামুখী কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

এ সময় তিনি ইলেক্ট্রনিক, অটোমোবাইল, টেলিযোগাযোগ, জাহাজ নির্মাণ, কেমিক্যাল ও স্টিল খাতে একক বা যৌথ বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যবসায়িক সহযোগিতার কথা বলেন। তিনি বলেন, হালকা, মাঝারি ও ভারী শিল্পে উচ্চপর্যায়ের গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে উভয় দেশ একযোগে কাজ করতে পারে। তৃতীয় শিল্প বিপ্লব থেকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে রূপান্তরে তথ্যপ্রযুক্তি, ন্যানোটেকনোলজি, রোবোটিক্স, সাইবার নিরাপত্তার পাশাপাশি নলেজ ট্রান্সফারে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনিশ বাংলাদেশকে বাণিজ্যে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান কোরিয়ার কাছে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিযোগিতামূলক দরে আপনার ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহে সক্ষম।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বাংলাদেশের জনশক্তি নেওয়ায় কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করছি, তারা আরো জনশক্তি নেবে।

এ সময় কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ী পর্যায়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।  এর আগে বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন কোরিয়ার বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রকল্প ও কার্যক্রমের ওপর বিস্তারিত অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।