নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৮৭০ কোটি টাকার বাজেট

নতুন কোনো করারোপ ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮৭০ কোটি ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬ টাকার অষ্টম বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরে ঘোষণা করা বাজেটের চেয়ে ১৫৪ কোটি ৮৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯৯ টাকা বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৭১৫ কোটি ৫১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৭ টাকা বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগর ভবন প্রাঙ্গণে এই বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী। এ সময় মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম সিদ্দিকী ও নাসিকের সিও এএফএম এহতেশামূল হক।

নাসিকের অষ্টম বাজেটে জলাবদ্ধতা নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে মোট ৮৭০ কোটি ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬ টাকা আয় (রাজস্ব খাতে ১৩৪ কোটি ৯৯ লাখ ১৫ হাজার ৩১৭ টাকা ও উন্নয়ন খাতে ৭৩৫ কোটি ৪০ লাখ ৬১ হাজার ৭৫৮ টাকা) আয় ধরা হয়েছে  এবং ৮৬৫ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ২৪৭ টাকা (রাজস্ব খাতে ১১৩ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫১ টাকা ও উন্নয়ন খাতে ৭৫১ কোটি ৭৫ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯৬ টাকা) ব্যয় ধরা হয়েছে। উদ্বৃত্ত রাখা হয়েছে ৫ কোটি ২২ লাখ ৬৪ হাজার ৮২৯ টাকা। বাজেট ঘোষণাকালে মেয়র আইভী বলেন, ‘সিটি করপোরেশন কঠিন বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। জালকুড়িতে ২৩ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন নাসিককে জায়গার দখলও বুঝিয়ে দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জে বর্জ্য ফেলার যে সমস্যা তা এই প্রকল্পের মাধ্যমে সমাধান হবে বলে আশা করেন মেয়র। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসনের জন্য ৬টি বহুতল ভবন তৈরির অনুমোদন দিয়েছেন সরকার। এটির দরপত্রও আহবান করা হয়েছে। বর্তমানে নাসিকের চলমান কয়েকটি কাজের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, মিউনিসিপ্যাল গভার্নেন্স সার্ভিসেস প্রকল্পের (এমজিএসপি) আওতায় বিশ্বব্যাংক বাবুরাইল খাল খননের জন্য ২৫০ কোটি টাকা বাজেট দিয়েছে। শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার খালের খনন কাজ চলছে। এই কাজের অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ। মেয়র আইভী বলেন, জাপান আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা (জাইকার) অর্থায়নে সিটি গভার্নেন্স প্রকল্পের (সিজিপি) আওতায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার কাজ চলমান আছে। এসবের মধ্যে রাস্তা-ঘাট, ড্রেন, খেলার মাঠসহ ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজ রয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নেও বিভিন্ন কাজ চলমান আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেওভোগের শেখ রাসেল পার্ক। খুব শীঘ্রই পার্কটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বাজেট ঘোষণাকালে মেয়র কদমরসুল সেতু প্রকল্প অনুমোদন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেগম হোসনে আরা বাবলী, মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া, আব্দুল কাদির, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, নাসিকের প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।