বাম জোটের মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ে পুলিশের বাধা

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা পূর্বঘোষিত জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে বাম জোটের দুই কর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ, সিপিবি, গণসংহতি আন্দোলন, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদসহ (মার্কসবাদী) কয়েকটি বাম দলের নেতাকর্মীরা জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে গেলে সচিবালয়ের সামনে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় বাম জোটের নেতারা দৃঢ়ভাবে ঘেরাও কর্মসূচি দিয়ে বিজয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে ১৯ জুলাই সারাদেশের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিনিধি সভার কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে গত ৭ জুলাই আধাবেলা হরতাল পালন শেষে গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কমানোর দাবিতে ১৪ জুলাই সমাবেশ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, যদি দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করা যায় তাহলে বছরে জ্বালানি খাত থেকেই ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি সাশ্রয় হয়। সেই সাশ্রয়ের দিকে না গিয়ে আমরা গ্যাস আমদানি করছি এবং ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি রেট চাপিয়ে দিয়ে সাধারণ জনজীবন, শিল্প, কৃষিসহ সমগ্র উদপাদন খাতকে এক ধরনের চাপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা আজকে ঘেরাও কর্মসূচি করলাম পরবর্তীতে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।

এদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম জোটের উদ্যোগে এক সমাবেশে কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের সঙ্গে মশকরা করছেন। এলএনজি ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য এলএনজি আমদানির অজুহাতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো। আমাদের দেশে কেন এলএনজি আমদানির প্রয়োজন হলো? দেশে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস আছে সেগুলোকে যদি আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারি তাহলে আমাদের দেশে জ্বালানির সমস্যা হওয়ার কথা না। তিনি আরো বলেন, বাপেক্স ও পেট্রোবাংলাকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। সিলিন্ডারের গ্যাস এলপিজি ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে লুটপাটের জন্য। সরকার যদি গ্যাসের দাম না কমান তাহলে ১৯ জুলাই সারাদেশের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিনিধি সভার পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, গত ১০ বছরে এ সরকার ৭ বার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। অথচ সরকার যদি পেট্রোবাংলাকে কাজে লাগাতে পারত তাহলে আজ গ্যাস আমদানির প্রয়োজন হতো না। জ্বালানি ক্ষেত্রকে সরকার লুটপাটের একটি অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। ব্যবসায়ীদের মুনাফা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। (ছবি ৩য় পৃষ্ঠায়)