নানা কারণে চলতি বছর বেশ ঘটনাবহুল ছিল বলিউড। তারকাদের বিয়ে, সন্তান, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বেফাঁস মন্তব্য তো ছিলই, তবে বলিউড ফ্যানদের সবচেয়ে বেশি ধাক্কা দিয়েছে প্রিয় সেলেবদের বিচ্ছেদ। তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনে বরাবরই আগ্রহ তাকে ফ্যানদের। তাদের বেডরুমের খবর জানতে বরাবই উৎসুক থাকে মানুষ। তাই বলিউডে ২০২৪ সালে কোন তারকার ঘর ভাঙল, কে ছিল পরকীয়ায় জড়িয়ে- তাই নিয়ে বলিউডের বিচ্ছেদ সালতামামি ইত্তেফাক ডিজিটালের পাঠকদের জন্য।
এ আর রহমান ও সায়রা বানু
দীর্ঘ ২৯ বছর একসঙ্গে থাকার পর আলাদা হয়ে গেল এ আর রহমান ও সায়রার পথ। ডিভোর্সের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ১৯৯৫ সালে বিয়ে হয় এই দম্পতির। খাতিজা, রহমান এবং আমিন নামের তিন সন্তানও আছে তাদের। নভেম্বর মাসে বিবাহ-বিচ্ছেদের ঘোষণা করেছেন এই জুটি। তবে ডিভোর্সের ঘোষণার সঙ্গে বিতর্কেও জড়িয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই সুরকার-গায়ক। এ আর রহমানের বিচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডিভোর্সের ঘোষণা দেন তার বেসিস্ট মোহিনী দে। তারপর থেকে এই বাঙালি ললনার সঙ্গে রহমানের সম্পর্কের জল্পনা তুঙ্গে। দুই বিচ্ছেদের মধ্যে কোনও যোগ আছে কিনা তা ভাবিয়ে তোলে নেটিজেনদের। তবে সায়রা, এ আর রহমান বা মোহিনী কেউই এসব বিষয় স্বীকার করেননি।
হার্দিক পান্ডিয়া ও নাতাশা স্টানকোভিচ
হার্দিক ও নাতাশার ডিভোর্স অনেকদিন ছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে চর্চার মূল টপিক। চলতি বছরের জুলাইয়ে ৪ বছরের বিবাহিত জীবনের ইতি টেনেছেন এই দম্পতি। নানা আলোচনা সমালোচনার মাঝে শেষ পর্যন্ত ছেলেকে নিয়ে দেশ ছেড়ে সার্বিয়া চলে যান নাতাশা, সেখানে ছিলেন কয়েক মাস। নভেম্বরের দিকে নাতাশা ফিরেছেন ভারতে, আবারও ফিরছেন বি টাউনের কাজে। অন্যদিকে, আইপিএলের আগে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছেন হার্দিক।
সানিয়া মির্জা ও শোয়েব মালিক
সানিয়া-শোয়েবের বিয়ে ছিল অনেকটা রূপকথার মতো। অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গিয়ে শোয়েব ও সানিয়ার মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০১০ সালে শোয়েব ও সানিয়ার প্রেম পরিণতি পায়। কিন্তু পরিণতি মধুর হলো না। বছরের শুরুতেই সানিয়া মির্জা ও শোয়েব মালিক বিচ্ছেদ ঘোষণা করেন। বহুদিন ধরে চলা গুঞ্জনে সিলমোহর পড়ে এ ঘোষণায়। এমনকি বিচ্ছেদের পর পরই তৃতীয় বিয়ে করে নেন শোয়েব মালিক। সানিয়ার বাবা জানিয়েছিলেন, শরিয়ত আইন অনুযায়ী শোয়েবকে ‘খুলা’ দিয়েছেন ভারতের টেনিস তারকা। শোয়েবের বোন জানিয়েছেন, এই বিচ্ছেদের জন্য দায়ী শোয়েবই, সানিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীনও একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি।
ধনুশ ও ঐশ্বরিয়া রজনীকান্ত
১৮ বছরের দাম্পত্যের পর আলাদা থাকার পর হুট করেই ২০২২ সালে আলাদা হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন ধনুশ ও ঐশ্বরিয়া রজনীকান্ত। তাতেই তোলপাড় হয়েছিল দাক্ষিণের গ্ল্যামার দুনিয়া। সেই ডিভোর্স চূড়ান্ত হয় ২০২৪ সালে। ২০০৪ সালে ঐশ্বরিয়াকে বিয়ে করেন ধনুশ। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২০। অভিনেতা হিসেবে সারা দেশে সুনাম রয়েছে ধনুশের। ২০১২ সালে ঐশ্বরিয়া পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার প্রথম ছবি ‘৩’-এর নায়ক ছিলেন ধনুশ। সেই সিনেমার গান ‘কোলাভরি ডি’ তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিল। ঐশ্বরিয়া-ধনুশের দুই পুত্র সন্তানও রয়েছে।
অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই
দক্ষিণী ঐশ্বরিয়া তো ধনুশের থেকে আলাদা হলেন। কিন্তু বলিউডের ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে নিয়ে বি-টাউনে রোজ টানাটানি। অভিষেক- ঐশ্বরিয়ার দাম্পত্যে এতটাই অশান্তি যে, শীঘ্রই নাকি তাদের ডিভোর্স হবে। এমনকি, রটে যায় ঐশ্বর্য নাকি বচ্চন পরিবার থেকে আলাদাই রয়েছেন। তবে এই নিয়ে ঐশ্বর্য বা অভিষেক মুখ না খুললেও, গোটা বলিউডে রটেছে তাদের বিচ্ছেদের গল্প। কিন্তু হঠাৎই গুঞ্জনে টুইস্ট। সম্প্রতি মেয়ে আরাধ্যার স্কুলের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে ঐশ্বর্য ও অভিষেককে। একসঙ্গে বসেই তারা মেয়ের পারফরম্যান্স দেখেছেন।
দলজিৎ কৌর ও নিখিল পাটেল
হিন্দি সিরিয়ালের জনপ্রিয় মুখ দলজিৎ কৌর ‘ইস প্যায়ার কো ক্যা নাম দুঁ’-সহ একাধিক সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে কেনিয়ার খ্যাতনামা ব্যবসায়ী নিখিল পাটেলকে বিয়ে করেন দলজিৎ। কিন্তু প্রথম বিবাহবার্ষিকীর আগেই ছন্দপতন। বিয়ের ১০ মাসের মাথায় ডিভোর্সের ঘোষণা দেন তিনি। এর আগেও একবার বিয়ে করেছিলেন দলজিৎ, সে সংসারও টেকেনি।
এষা দেওল ও ভারত তখতানি
২০১২ সালের জুন মাসে বন্ধু, হিরে ব্যবসায়ী ভারত তখতানির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর কন্যা এষা দেওল। বছরের শুরুতেই তার বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে নানা জল্পনা শোনা যাচ্ছিল। ফেব্রুয়ারিতে এষা ও ভরত দুজনেই জানান তারা বিচ্ছেদের পথেই হাঁটছেন। এষা-ভরতের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, ভরত পরকীয়ায় জড়ানোতেই বিচ্ছেদের ঘোষণা হেমা মালিনী কন্যার।