গাজীপুরে শ্রমিক বহনকারী বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে। সোমবার সকালে গাজীপুর মহানগরীর রাজেন্দ্রপুর এলাকার ঢাকা-কাপাসিয়া সড়কের হালডোবা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মো. মিজানুর রহমান, রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার জাগির বাগলি গ্রামের মৃত আছালত মন্ডলের ছেলে মাজেদ মন্ডল, সিরাজগঞ্জের তারাশ থানার ঘুলটাবাজার এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে মো. নাজিম উদ্দিন, একই এলাকার ফজল আলীর ছেলে আব্দুস সামাদ ও রফিকুল ইসলামের ছেলে রাতুল।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস এলাকা থেকে পোশাক কারখানার শ্রমিক বহনকারী একটি বাস সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় যাচ্ছিল। বাসটি হালডোবা এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই লেগুনার দুই যাত্রী নিহত ও ১১ জন আহত হয়। এ ঘটনায় লেগুনার সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রেরণ করে। আহতদের মধ্যে সেনানিবাস হাসপাতালে একজন ও গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২ জন মারা যায়। দুর্ঘটনার পর মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ওই হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। দুর্ঘটনার পর পুলিশ বাস ও লেগুনাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক প্রণয় ভূষণ দাস জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহত ৭ জনকে এ হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে রাতুল ও মাজেদ মন্ডল মারা যায়। গুরুতর আহত দুলাল (৪৫) নামের একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আহত খাইরুল, খলিল ও নিশান আহমেদসহ চারজনকে এ হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ওসি সমীর চন্দ্র সূত্রধর জানান নিহতদের মধ্যে নাজিম উদ্দিন, আব্দুস সামাদ ও রাতুল একই পরিবারের। তারা রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে একটি অনুষ্ঠানে লেগুনাযোগে আসার পথে দুর্ঘটনা কবলিত হন।