মির্জা ফখরুল চড়েন স্ত্রীর গাড়িতে

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ১০ বছর আগে কোনো মামলা না থাকলেও বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৪৬টি মামলা রয়েছে। এই ১০ বছরে আড়াই গুণ সম্পদ বেড়েছে তার স্ত্রীর। স্ত্রীর দেয়া উপহারের গাড়িতেই চড়েন মির্জা ফখরুল।

বগুড়ার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন মির্জা ফখরুল। বগুড়া-৬ (সদর) ও ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, তিনটি মামলা হয়েছে তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে। অন্য  সব মামলা করা হয়েছে ঢাকায়। ৪৬ মামলার মধ্যে ১৬টি চলমান রয়েছে। ১০টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। ২০টি মামলা স্থগিত করেছে আদালত।

এদিকে, গত ১০ বছরে স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের অস্থাবর সম্পদ প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে বলে উল্লেখ করেছেন মির্জা ফখরুল। সম্পদ বেড়ে যাওয়ায় স্বামীর চেয়েও বেশি সম্পদশালী হয়েছেন স্ত্রী। ২০০৮ সালের হলফনামায় রাহাত আরার অস্থাবর সম্পত্তি দেখানো হয়েছিল ২৩ লাখ ২২ হাজার ২৩২ টাকার। এবার দেখানো হয়েছে ৬৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩২২ টাকা। ২০০৮ সালে মির্জা ফখরুলের অস্থাবর সম্পদ ছিল ৩৯ লাখ ৭ হাজার ১৯০ টাকার। এবার দেখানো হয়েছে ৪৪ লাখ ৬১ হাজার ৪৪৫ হাজার টাকা। ২০০৮ সালের হলফনামায় নিজের কোনো গাড়ির কথা উল্লেখ না থাকলেও এবার স্ত্রীর কাছ থেকে উপহার পাওয়া একটি ব্যক্তিগত গাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন ফখরুল। তবে এর মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।

১০ বছর আগে হলফনামায় ব্যাংক ঋণের টাকায় কেনা স্ত্রী রাহাত আরার ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন ফখরুল। এবারের হলফনামায় তার স্ত্রীর ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ১৪০ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। ১০ বছরে রাহাত আরার কোনো স্থাবর সম্পদ বাড়েনি। উল্টো বেড়েছে ফখরুলের স্থাবর সম্পদ।

১০ বছরে ঋণ কমেছে বিএনপি মহাসচিবের। ২০০৮ সালের হলফনামায় তিনি ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৬ টাকা ঋণের কথা উল্লেখ করেন। এবারের হলফনামায় ঋণ উল্লেখ করা হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৪ টাকা। এ ছাড়া নিজের নামে একটি দোতলা বাসা থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন। পেশা লিখেছেন ব্যবসা ও পরামর্শক।