ফতুল্লায় বিসিক রণক্ষেত্র, পুলিশসহ আহত অর্ধশত

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিসিক শিল্প নগরীতে ফকির নিট ওয়্যার নামের একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভসহ বেশ কয়েকটি কারখানা ভাঙচুর করেছে। পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। গতকাল সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় শিল্প পুলিশের একজন সহকারী পুলিশ সুপার, ফতুল্লা থানার ওসি ও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ প্রায় অর্ধশত সাধারণ শ্রমিক আহত হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষ  চলাকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

পুলিশ ও শিল্প মালিকরা জানান, উত্পাদন মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে ফকির নিটওয়্যার কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে গত তিনদিন ধরে অসন্তোষ চলছিল। মালিকপক্ষ মজুরি বৃদ্ধি করলেও দাবি অনুযায়ী বৃদ্ধি না হওয়ায় শ্রমিকরা গত রবিবার কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করে। অসন্তোষ নিরসনে কারখানাটির মালিকপক্ষ গতকাল সকালে বিসিক কর্তৃপক্ষ, বিকেএমইএ কর্তৃপক্ষ ও শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। তারা মজুরি সমন্বয় করার আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা মেনে না নিয়ে বিসিকের ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে এ বিক্ষোভ পুরো বিসিকে ছড়িয়ে পড়লে বিশেষ পোশাকধারী বহিরাগত শতাধিক যুবক এসে শ্রমিকদের সাথে যোগ দেয়। এসময় তারা বিসিকসহ আশপাশের ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। শিল্প মালিকদের কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়িও তারা ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও ফতুল্লা থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। শ্রমিকরা পুলিশের উপর ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। শুরু হয় শ্রমিক-পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পুলিশ বহিরাগতদের লাঠিচার্জ করে। এসময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়কে সংঘর্ষ চলতে থাকে। সংঘর্ষের কারণে বিসিক সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়কে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এদিকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের একটি অংশ জানান, ফকির গার্মেন্টসে সমপ্রতি একটি মেশিন আনা হয়েছে। এতে শ্রমিক ছাঁটাই ও মজুরি কমার আশংকায় শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও এম.ভি নিট ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা মো. হাতেম জানান, উত্পাদন মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে ফকির নিটওয়্যার কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে গত তিনদিন ধরে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। শ্রমিকদের সঙ্গে গতকাল বহিরাগত যুবকরা যোগ দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। এম.ভি নিটওয়্যার, নরসিংপুর এলাকার সাহিল গ্রুপ, হাজী হাসেম স্পিনিং মিল ও তারা স্পিনিং মিলে ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।