দুর্ভোগে হাজার হাজার মানুষ
কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা
ভারী বৃষ্টি হলেই কর্ণফুলী নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। আর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লিচুবাগানে ফেরি পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলে দফায় দফায় ফেরি পারাপার বন্ধ হয় বলে জানা গেছে। আর ফেরি পারাপার বন্ধ হলে যাতায়াতে হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
কাপ্তাই উপজেলার রাইখালীতে অবস্থিত পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলতাফ হোসেন বলেন, কর্ণফুলী নদীর লিচুবাগানে অবস্থিত ফেরিটি যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কাপ্তাই, রাজস্থলী উপজেলায় যাতায়াতে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই ফেরি দিয়ে যাতায়াত করেন। সাধারণ জনগণের যানবাহন ছাড়াও চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডেরও বিপুলসংখ্যক গাড়ি প্রতিদিন এই ফেরি দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু ফেরির পন্টুন পানিতে ডুবে থাকায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। আর ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কাপ্তাই, রাজস্থলী উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। প্রত্যেক বর্ষায় মানুষকে এভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক বলেন, গত ৭ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই উপজেলায় লাগাতার বৃষ্টি হয়। বৃষ্টি হলেই কর্ণফুলী নদীতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায় এবং নদীতে পানির স্রোতও বেড়ে যায়। আর তখন ফেরির পন্টুন পানিতে ডুবে যায়। ঐ অবস্থায় ফেরির ওপর কোনো যানবাহন উঠতে পারে না। ফলে ফেরী চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে অসংখ্য মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা অজয় সেন জানান, গত ১৩ জুলাই সকালে পাহাড় ধসে রাইখালী ইউনিয়নের কারিগর পাড়ায় দুই ব্যক্তি মাটি চাপা পড়েন। তাদের উদ্ধার করার জন্য কাপ্তাই দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। খবর পাবার সঙ্গে সঙ্গে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। কিন্তু লিচুবাগান ফেরিঘাটে এসে দমকল বাহিনীকে থমকে যেতে হয়। ফেরির পন্টুনে পানি ওঠায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। যার ফলে দমকল বাহিনীর সদস্যরা মাটি চাপা পড়া লোকজনদের উদ্ধার করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি। এ রকম দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে সব সময় পড়তে হয় বলেও তিনি জানান।