দেশের বাজারে রাজশাহীর আম খুবই প্রসিদ্ধ। রাজশাহীতে উৎপাদনের সিংহভাগ আম চাষ হয় বাঘা ও চারঘাট উপজেলাতে। আমের রাজ্য খ্যাত এ দুই উপজেলাতেই এবার হানা দিয়েছে কুয়াশা। তাই মুকুল নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় রাজশাহীর চাষিরা।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, কুয়াশায় আমের মুকুল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম। যদি কুয়াশার পরে রোদ ওঠে তাহলে আমের মুকুল নষ্টের পরিবর্তে আরও সতেজ হবে। তবে কুয়াশা থেকে মুকুল রক্ষায় কিছু ছত্রাক জাতীয় কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা।
চারঘাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এর মধ্যে বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় ৭০ শতাংশ আম চাষ হয়। বাকি ৩০ শতাংশ আম চাষ হয় পুরো জেলায়। মূলত রাজশাহীর আম বলতে যা বোঝায়, তা এই দুই উপজেলা থেকেই বেশি সরবরাহ হয়।
অন্যদিকে এ দুই উপজেলার আম চাষের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া, ভায়ালক্ষিপুর, চারঘাট সদর, সারদা ও শলুয়া এবং বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম, বাউসা, গড়গড়িয়া ইউনিয়নের অনেক বাগানেই আগাম মুকুল এসেছে। আর আগাম মুকুল আসায় চাষিদের মাঝে যেমন আনন্দ বইছে, তেমনি ঘন কুয়াশায় মুকুল নষ্টের আশঙ্কাও রয়েছে।
চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের কালুহাটি গ্রামের আম চাষি বাহাদুর রহমান বলেন, প্রায় ৭ বিঘা জমিতে আমের বাগান করেছি। গত দুই বছর বাগানে মুকুল আসেনি। ফলে অনেক বাগান কেটে ফেলেছি। তবে এখন যেসব বাগান আছে সেগুলোতে আগে ভাগেই মুকুল এসেছে। কুয়াশায় মুকুল নষ্ট না হলে এবার ব্যাপক ফলন হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান জানান, আমের জন্য বিখ্যাত চারঘাট উপজেলায় ৪ হাজার ৯শ’ ৩ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। পৌষের শেষের দিকে লক্ষণভোগসহ স্থানীয় বিভিন্ন জাতের আম গাছে মুকুল আসার এখনই উপযুক্ত সময়। ফলে চাষিদের বাগান পরিচর্যা, ওষুধ স্প্রে করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। চাষিরাও অধিক ফলনের আশায় সেই অনুযায়ী কাজ করছেন।