বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার শহর রক্ষা বাঁধে ধস নেমেছে। নদীতে সে াত তীব্র হওয়ায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ব্লক বালি মাটি ভেসে যাচ্ছে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মাথায় শহররক্ষা বাঁধের এমন করুণ পরিণতি হওয়ায় তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী। তাদের অভিযোগ- শহররক্ষা বাঁধের কাজে অতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করা এবং ব্লকগুলো তৈরি করা হয়েছে পাথরের সঙ্গে ইটের খোয়া মিশিয়ে।
তাহেরপুর বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, তাহেরপুরকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পৌরসভার উদ্যোগে বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এই পরিকল্পনার আওতায় তাহেরপুর ব্রিজ থেকে পুরাতন লঞ্চঘাট পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ মিটার বারনই নদীর তীর সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এক প্রকল্পের মাধ্যমে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজের ঠিকাদার ছিলেন খালেদ মোহাম্মাদ সেলিম। কাজের সময়সীমা ১০ মাস নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যথা সময়ে কাজ শুরু করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুরুতে ঐ প্রকল্প এলাকায় ৫৮ লাখ টাকার মাটি ভরাটের কাজ করা হয়। ভরাটের কয়েক মাস পর মাটি ধসে গেলে আরো অতিরিক্ত ৪০ লাখ টাকার মাটি ভরাট করা হয়।
তাহেরপুর পিঁয়াজ হাটার মুদিব্যবসায়ী ইলিয়াস মোল্লা রাজা, হোটেলব্যবসায়ী অসীম চন্দ্র ও চা বিক্রেতা ঝুন্টু চন্দ্রসহ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, শহররক্ষা বাঁধে মাটি ভরাটের পর সেখানে ব্লক ফেলার আগে বালি ভরাটের কথা ছিল; কিন্তু ঠিকাদার টাকা বাঁচানোর জন্য সেখানে বালির পরিবর্তে আবারও মাটি দিয়ে ভরাটের কাজ সেরেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টির পানিতে মাটি সরে গিয়ে সেখানে ধস নেমেছে। ব্যবসায়ীরা আরো জানান, একই নদীর পার্শ্ববর্তী সাধনপুর বাজারে একইভাবে ব্লক দিয়ে সাধনপুর বাজার রক্ষা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রায় বিশ বছর হয়েছে সেখানে ব্লক ও বাঁধের সামান্যতম ক্ষতি হয়নি। অথচ তাহেরপুর পৌরসভার শহর রক্ষা বাঁধটি নির্মাণের এক মাসের মাথায় ধসে পড়ে। তারা আরো জানান, যে ব্লকগুলো ফেলা হয়েছে তাতে বাইরের দিক থেকে পাথরের ফিনিসিং দেওয়া থাকলেও ব্লকের ভিতরে দেওয়া হয়েছে তিন নম্বর ইটের খোয়া। গত এক সপ্তাহ ধরে বাঁধ ধসে পড়লে স্থানীয়রা কিছু ব্লক তুলে এনে সেগুলো উলটিয়ে দেখেন ভিতরে শুধু ইটের খোয়া। এছাড়া বেড়িবাঁধের স্থানে স্থানে পানি নিষ্কাশনের জন্য বড়ো বড়ো লোহার পাইপ ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে প্লাস্টিকের পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের মতে মেয়র শুধু লোক দেখানোর জন্য নামমাত্র এসব উন্নয়ন করে চলেছেন। এতে নাগরিক সুবিধার চেয়ে দুর্ভোগ বৃদ্ধি করছে বেশি।
এ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক খালেদ মোহাম্মাদ সেলিম বলেন, সেখানে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমরা তা ঠিক করে দিব। এছাড়া ব্লকগুলো শুধুই পাথর দিয়ে তৈরি আর আমরা রাজশাহীতেই এই ব্লকের কাজ করেছি। কোথাও ইটের খোয়া ব্যবহার করিনি।
এ বিষয়ে পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জানান, বেড়িবাঁধটি প্রাকৃতিক কারণে ধসে পড়েছে। এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এখানে কাজের মান ঠিক রয়েছে। ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করা হয়নি। ষোলোআনা কাজ বুঝে নিয়ে তবেই বিল পরিশোধ করা হবে।
মেয়র আবুল কালাম আজাদ বলেন, নতুন ও আলগা মাটির কারণেই বেঁড়িবাঁধে ধস নেমেছে। তবে সম্পূর্ণ কাজ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারকে কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না বলে তিনি দাবি করেন।