নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল, মীরকুটিরছেও, ভোলাব, চারিতালুক, কুতুবপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রতিবাদ করলেই প্রভাবশালীদের নিয়োজিত সন্ত্রাসীরা হামলা, মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে কৃষকদের। কখনো কখনো ভেকু (এস্কেভেটর) দিয়ে রাতারাতি ফসলি জমির মাটি কেটে তারা পুকুর বানিয়ে ফেলছে। হতদরিদ্র কৃষক ও বর্গাচাষিরা এর কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। ইটভাটায় মাটি সরবরাহকারীরা বিভিন্ন কৌশলে কৃষকদের জিম্মি করে তাদের নিঃস্ব করে ফেলছে। কোনো কোনো কৃষক এক ফুট থেকে দেড় ফুট গভীর পর্যন্ত জমির মাটি বিক্রি করলেও রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ১০ ফুট থেকে ১৫ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি চুরি করে কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের হিসাব অনুযায়ী রূপগঞ্জে কয়েক বছর আগে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ফসল চাষাবাদ করা হতো। আর বর্তমানে কৃষি জমির পরিমাণ ১২ হাজার হেক্টরে নেমে এসেছে। বর্তমানে আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে সবজি, সাড়ে আট হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান এবং আড়াইশ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষাবাদ করা হচ্ছে। উপজেলায় আগে ৪২ হাজার কৃষি পরিবার থাকলেও আবাদী জমি কমতে থাকায় কৃষক পরিবারের সংখ্যাও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। মাটিখেকোরা কৃষি জমির মাটি গভীর করে কেটে নেয়ায় ফসলি জমি হারাচ্ছে কৃষক। বিপর্যয় ঘটছে পরিবেশের। আর ফসল উত্পাদন কমে যাওয়ায় কৃষকদের পরিবারে অভাব অনটন ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
চারিতালুক গ্রামের বর্গা চাষি জলিল মিয়া বলেন, সৌদি প্রবাসীর জমি চাষাবাদ করে তিনি সংসার চালাতেন। মাটি চোরদের কারণে তিনি এখন হতদরিদ্র দিনমজুর। এখন অভাব অনটনের মাঝে তার সংসার চলছে।
ভোলাব কুতুবপুর এলাকার কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, তিনি গত বছর হজ করে দেশে ফিরে দেখেন তার কৃষি জমির মাটি দুর্বৃত্তরা কেটে নিয়ে পুকুর বানিয়ে ফেলছে। প্রতিবাদ করায় দুর্বৃত্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ দিতে নিষেধ করে।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফাতেহ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের বৈধ অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণির পরিবর্তন সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি। কৃষি জমির মাটি চুরি করে নেয়ার ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।