তুলাতলী নদীতে ব্যাপক ভাঙন
গোলাম মোস্তফা, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা
মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও বৈরিতার জন্য বাকেরগঞ্জে তুলাতলী নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। অব্যাহত ভাঙনের ফলে অনেকে হারাচ্ছে তাদের ভিটা-মাটি, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। এ পৌরসভার নদীর তীরবর্তী শতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। আরো প্রায় সহস্রাধিক পরিবার বর্তমানে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে। এ নদীর ভাঙন রোধকল্পে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি তুলেছেন বাকেরগঞ্জ পৌর মেয়র, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্তরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, তুলাতলী নদীর ভাঙনে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী বাকেরগঞ্জ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাকেরগঞ্জ বন্দর, কাঠেরপুল, বাড়িবাজার, সাহেবগঞ্জ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে অনেক স্থাপনা, ফসলি জমি ও বসতভিটা। নিশ্চিহ্ন হতে যাচ্ছে পৌরসভার নির্দিষ্ট কিছু সীমানা।
পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নদীর তীরবর্তী অশোক কুমার জানান, তাদের প্রায় ৬ একর জমি ও বাড়ির সামনের রাস্তাটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বসতবাড়িটি যেকোনো মুহূর্তে নদীরগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তাছাড়াও ২ নম্বর ওয়ার্ডের ডাক্তার আ. সোবাহান, মুজিবুর রহমান জোমাদ্দারসহ অনেকের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আ. খালেক হাওলাদার ও মুজিবুর হাওলাদার জানান, তাদের বাড়ির সামনে থেকে প্রায় ৫ একর ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় এখন তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে।
পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া বলেন, ভাঙনের কারণে মানুষ গরিব হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে হারিয়ে যাচ্ছে নদীর তীরবর্তী সভ্যতা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যর স্মারক। নদীর ভাঙনের রূঢ় বাস্তবতা আমাদের পৌরসভার মানুষকে সব সময় দুঃস্বপ্নের মতোই তাড়িত করছে। তিনি নদীভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও প্রয়োজনীয় কর্মসূচি হাতে নেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
বরিশাল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ বলেন, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার তুলাতলী নদীভাঙনের বিষয়টি সম্পর্কে বাকেরগঞ্জ পৌর মেয়র আমাদের অবহিত করেছেন। খুব শীঘ্রই আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।