বৃষ্টি এলেই ছুটি হয়ে যায় ঘরবিহীন স্কুল

 ‘সবার জন্য শিক্ষা’—এ স্লোগানকে ধারণ করে দরিদ্র শিশুদের শিক্ষিত করে তোলার জন্য কয়েকজন তরুণের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ঘরবিহীন ‘স্বপ্ন পূরণ বিদ্যানিকেতন’-এর কার্যক্রম প্রায়ই বিঘ্নিত হয় বৃষ্টির কারণে। পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের পুরান লঞ্চঘাটের পাশের বটতলার নিচে চলে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম। গরিবের স্কুল হিসেবে পরিচিত বিদ্যালয়টির কার্যক্রম বর্ষাকালেও যাতে পরিচালনা করা যায়, তার ব্যবস্থা নিতে সরকারের শিক্ষা বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। 

দিনমজুর ও জেলে সম্প্রদায়ের যেসব শিশুর লেখাপড়া করার কোনো সুযোগ ছিল না, তাদেরকে অক্ষরজ্ঞান দেওয়াই ছিল বিদ্যালয়টির মূল লক্ষ্য। ঝরে পড়া ও দরিদ্র ২৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে স্বপ্ন পূরণের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২০ জন ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছে। নিজেদের রোজগারের পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ালেখা করতে আসে। স্বেচ্ছাশ্রমে কলেজপড়ুয়া একদল শিক্ষার্থী পালাক্রমে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চালিয়ে থাকেন। স্থানীয় বিত্তবান নানা পেশার মানুষের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনা পয়সায় বই-খাতাসহ চিকিত্সাসংক্রান্ত নানা সুবিধাও দেওয়া হয়ে থাকে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দেওয়া হয় চকলেট, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য। কিন্তু বিদ্যালয়টির স্থায়ী ঘর না থাকায় বৃষ্টি এলেই বন্ধ হয়ে যায় স্কুলের কার্যক্রম। বর্ষাকাল ছাড়া বাকি মৌসুমগুলোয় বিদ্যালয়ে কার্যক্রম চলে খোলা আকাশের নিচেই। বিষয়টির প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

নিয়ামুর রশিদ শিহাব, গলাচিপা, পটুয়াখালী