চিকিত্সার জন্য অটো করে বাচ্চা নিয়ে যাচ্ছিলেন মোবারক হোসেন। ক্যাডেট কলেজের মোড়ে বিপরীত পাশ দিয়ে আসা মাইক্রোবাস কেড়ে নিত বাবা-সন্তানের প্রাণ। কিন্তু মোড়ে থাকা প্রাণ রক্ষাকারী আয়নাই রক্ষা করল তাদের। বলছিলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও কোটবাড়ি সড়কের কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের মোড়ে অবস্থিত আয়নার কথা। সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের অর্থায়নে মূল গেইটে দেওয়া হয়েছে আয়নাটি। ঐ সড়কের চালকরা জানান, আয়নাটির কারণে আগের চেয়ে দুর্ঘটনা অনেক কমে গেছে। আয়নায় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি দেখতে পাওয়ায় চালকরা সতর্ক হয়ে যান। এভাবে সকল রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
গাড়ি দুর্ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন প্রায় ২৪ বছর ধরে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্দোলন করছেন। তিনি এক সাক্ষাত্কারে বলেন, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হলো মানুষের অসচেতনতা। তবে ড্রাইভার ও যাত্রীরা একটু সচেতন হলেই শতকরা ৮০ ভাগ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। আর মহাসড়কে যেহেতু অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত গতি আর বেপরোয়া ওভারটেকিংয়ের কারণে। তাই অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেইসঙ্গে দরকার নতুন ও অনভিজ্ঞ, অদক্ষ চালকদের জন্য কার্যকর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইনের প্রয়োগ জরুরি। তবে অনেক সময় শুধু আইন প্রয়োগ করেও সড়ক দুর্ঘটনা কমানো যায় না; তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মো. জয়নাল আবেদিন, শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়