মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানাধীন ১০ নং হাজীপুর ইউনিয়নের বিশাল এক মৌজার নাম কাউকাপন। জনবহুল এই মৌজায় মনু নদের তীরে কাউকাপন বাজারের অবস্থান। তিন বছর আগে থেকেই মনু নদের কাউকাপন বাজার সংলগ্ন অংশে শুরু হয় ভাঙন। এর পর থেকে মনু নদের ছোবলে ব্যবসা হারিয়ে পথে বসেছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বাজারের প্রায় ৬০%। ২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় পার্শ্ববর্তী বাড়ইগ্রামে ভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই জনপদের একাংশ। ঐ সময় মনু নদে বাজারের ৪৫% বিলীন হয়ে যায়। বাকি অংশ ২০১৯ সালে বিলীন হয়ে বর্তমানে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগুচ্ছে শতবর্ষের এই বাজার।
২০১৮ সালে বন্যার আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁশ দিয়ে বাঁধ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও বন্যার প্রথম ধাক্কাতেই তা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে বক কিংবা ফ্লাড ওয়াল দেওয়ার আশা দেখালেও দেড় বছরে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই অঞ্চলে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে জনগণ শুধু বিল পাস হচ্ছে বলে আশাবাদ শুনে যাচ্ছে। বাজার এবং জনপদ রক্ষার জন্য বক কিংবা ফ্লাড ওয়াল ছাড়া অন্য কোনো কিছুতেই কাজ হবে না।
এই জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া অতিবৃষ্টি ভয়াবহ বন্যায় রূপ নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত আগের ভাঙন থেকে টিকে থাকা ক্ষুদ্র অংশগুলো পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে নদীর পাশে বাঁধের ওপর তৈরি সড়কের কিনারে এসে পৌঁছেছে নদীর স্রোত। প্রতি মিনিটেই ভেঙে পড়ছে বাঁধ এবং সড়ক। যার ফলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে কুনিমুরা-তারাপাশা সড়ক। যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম এই পাকা রাস্তা। রাস্তা ভাঙলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে এই জনপদের মানুষকে। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি দেখা দেবে ভয়াবহ বন্যা।
আশা করি কর্তৃপক্ষ অতিদ্রুত কাউকাপন বাজার, এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা এবং জনপদকে বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য স্থায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
মো. নিজাম উদ্দিন
কাউকাপন, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার