উদ্ধার হওয়া একটি পাহাড়ি ময়নার সঙ্গে মুক্ত আকাশে ডানা মেলেছে ভুবন চিল। প্রায় সাত মাস আগে নাটোরের একটি মুদি দোকান থেকে পাহাড়ি ময়না আর ১৫ দিন আগে আহত অবস্থায় ভুবন চিলটিকে উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানে পাখি দু’টি অবমুক্ত করা হয়।
বন্য প্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, সিংড়ার বামিহাল গ্রামের একটি মুদি দোকান থেকে পাহাড়ি ময়নাটিকে উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন বন্দি থাকায় ময়না পাখিটির আচরণ গৃহপালিত পাখির মতো ছিল। পাখিটি উড়তে ভুলে যায়।কথা শেখানোর কারণে কেবল দোকানির সাথে কথা বলতো। উদ্ধারের পর দীর্ঘ সাত মাস পাখিটির সাথে কেউ কথা বলেনি। এই সময়ের মধ্যে পাখিটি পুরোপুরিভাবে প্রকৃতিতে টিকে থাকার সক্ষমতা ফিরে পায়। এ কারণে বন বিভাগের পক্ষ থেকে পাখিটি অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাখিটি এখন উড়তে শিখেছে। তবে দোকানির শেখানো বুলি ভুলে গেছে।
একইভাবে ভুবন চিলটিকেও উদ্ধার করা হয়েছিল নাটোর সদর এলাকা থেকে। এই পাখিটি অসুস্থ ছিল। টানা ১৫ দিন চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর পাখিটিকে সুস্থ করে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভুবন চিল এক বিপন্ন প্রজাতির একটি পাখি। আবাস ও খাদ্য সংকটের কারণে এই পাখিটি হারিয়ে যেতে বসেছে। ভুবন চিল লম্বা চেরা লেজওয়ালা কালচে-বাদামি মাঝারি আকারের শিকারি পাখি। এর দৈর্ঘ্য কমবেশি ৬১ সেন্টিমিটার, ডানা ৪৩ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার। ঠোঁট ৩ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার, পা ৫ দশমিক ২ সেন্টিমিটার ও লেজ ২৬ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এ এম সালেহ রেজা বলেন, ময়না পাখিটিকে ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যানের একটি উঁচু গাছের ডালে গিয়ে বসে। এ সময় একটি ভুবন চিলও ওই উদ্যানে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভুবন চিলটিকে প্রায় ১৫ দিন পরিচর্যার পর সুস্থ করে অবমুক্ত করা হয়েছে।