শাবিতে চব্বিশের শহীদ স্মরণে দোয়া ও জিয়াফত 

চব্বিশে ছাত্র-জনতার অভুত্থানে শহীদদের স্মরণে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে দোয়া ও জিয়াফত। এটির আয়োজন করে শাবির ‘বিপ্লবী সাংস্কৃতিক মঞ্চ’।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও গুম হওয়া বিএনপি নেতা মো. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। 

তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, আমরা কোনো আন্দোলনে যখন জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হবো, তখন সেই আন্দোলন সফল হবে। যদি আমাদের মধ্যে ভেদাভেদ থাকে তাহলে সফলতা অর্জন করতে পারবো না।

জুলাই বিপ্লবে ঢাবির হল প্রভোস্টদের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ছাত্রলীগকে যখন শিক্ষার্থীদের ওপর লেলিয়ে দেওয়া হয়, তখন ছাত্রলীগ আমাদের বোনদের কী ধরনের নির্যাতন করেছে তা মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছেন। আমি সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি যে, যখন হল খালি করা হলো তখন ওই হলগুলোর প্রভোস্ট ছাত্রীদের বলেছেন- ‘তোমরা এখন বেরিয়ে যাবে, না হলে তোমাদের কিছু হলে এর জন্য আমরা দায়ী না।’ একজন শিক্ষক হিসেবে তাদের নিরাপত্তা না দিয়ে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাদের শিক্ষক বলতে লজ্জা লাগে।

তাহসিনা রুশদী আরও বলেন, আপনারা দেখছেন, তারা পালিয়ে গিয়ে মিডিয়ার মধ্যে যে বক্তব্য দিচ্ছে তাতে কোনো অনুতাপ নেই। তারা যে এত অন্যায় করেছে, এত মানুষ হত্যা করেছে, দেশের কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে, এতে তাদের কোনো অনুতাপ নাই।

উপ-উপাচার্য বলেন ‘ছাত্রজনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের কিছুদিন না পেরুতেই তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ফের বৃদ্ধি পেয়েছে। অাজ জিয়াফত অনুষ্ঠানে যেভাবে সবাই একত্র হয়েছি দেশের স্বার্থেও আমাদের একতাবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত। তাই নতুন প্রশাসন দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে প্রতিটি কার্যক্রম শিক্ষার্থীবান্ধব করার চেষ্টা করছে। ফ্যাসিজম যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

এসময় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবির শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমেদ, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলজার আহমেদ, বিপ্লবী সাংস্কৃতিক মঞ্চের উপদেষ্টা ইমরান লস্কর, শাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম সুজন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, জিয়াফত ও দোয়া উপলক্ষ্যে ৩টি গরু ও ২টি ছাগল জবাই করা হয়। এতে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে শাবির দেড় হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।