নিয়ম পালটাতে নিউজিল্যান্ডের অনুরোধ

স্পোর্টস ডেস্ক

উত্সবের মঞ্চটা প্রস্তুতই ছিল। কে জানত ক্রিকেট এমন মঞ্চে এমন বিস্বাদ উপহার দেবে নিউজিল্যান্ডকে। মূল ম্যাচ টাই হওয়ার পর সুপার ওভারও টাই। বাউন্ডারিতে পিছিয়ে থেকে শিরোপা খোয়াতে হয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপদের। কোচ গ্যারি স্টিড তাই মনে করছেন, আইসিসির কর্তাদের উচিত এখন অন্তত এ নিয়ম থেকে সরে আসা।

স্টিড বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে, ওরা যখন এ নিয়ম বানিয়েছে তখন স্বপ্নেও ভাবেনি যে বিশ্বকাপে ফাইনালেই এমন কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। তাই আমি মনে করি এ নিয়মের ব্যাপারে এখন ভেবে দেখার সময় চলে এসেছে।’

রোববার রাতে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটা ছিল খোদ ক্রিকেটের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৪২ রানের লক্ষ্যে ইংল্যান্ড থামে ২৪১ রানে। মানে ম্যাচ টাই। শিরোপা নির্ধারণের জন্য তখন উপায় একটাই—সুপার ওভার।

তাতে, ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে ইংল্যান্ডের জশ বাটলার ও বেন স্টোকস মিলে বিনা উইকেটে তোলেন ১৫ রান। জবাব দিতে নেমে তরুণ পেসার জোফরা আর্চারকে রীতিমত তুলোধুনোই করছিলেন জিমি নিশাম। কিন্তু, তিনি আউট হওয়ার পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে থাকে। শেষ বলে জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের দরকার পরে দুই রান। গোটা আসরের ব্যর্থ ওপেনার মার্টিন গাপটিল করতে পারেন মাত্র এক রান। সুপার ওভারেও টাই। কিন্তু, বাউন্ডারিতে এগিয়ে থেকে শিরোপা চলে যায় ইয়ন মরগ্যানদের হাতে। ইংল্যান্ডের ২৬টা বাউন্ডারির বিপরীতে নিউজিল্যান্ডের বাউন্ডারি ছিল মাত্র ১৭টা।

স্টিড মনে করেন, এসব ইস্যুতে শিরোপা ভাগাভাগিটাও একরকম ‘মন্দের ভালো’ হতে পরে। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন সাত সপ্তাহ ধরে খেলা চালাবেন এবং ফাইনালে এসে দেখবেন যে কোনো চ্যাম্পিয়ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তখন ট্রফি ভাগাভাগি করাই যেতে পারে।’

ফাইনালে ইংল্যান্ডের সমান রান করেও শিরোপা হারিয়ে হতাশ নিউজিল্যান্ড। কোচ বলেন, ‘এটা খুবই বাজে একটা অনুভূতি। আপনি ১০০ ওভার মাঠে থাকলেন, প্রতিপক্ষ যা রান করল আপনিও ঠিক সমান সেই রানটাই করলেন, কিন্তু স্রেফ টেকনিক্যাল কিছু জায়গায় হেরে গেলেন।’

ফাইনালে একটা ওভার থ্রো নিয়েও বিতর্ক হয়। আইসিসির আইন বলে, সেই ডেলিভারি থেকে ইংল্যান্ড আসলে পাঁচ রান পায়। কিন্তু, লঙ্কান আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা তাদের দেয় ছয় রান। ওখানে একটা রান কমে গেলে ম্যাচ আর সুপার ওভারে যায় না। শিরোপা জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড।

কোচ অবশ্য এ ব্যাপারে কড়া কোনো মন্তব্য করলেন না। বললেন, ‘আমি আসলে এ আইনটা ঠিকমতো জানি না। এটা দেখার জন্য আম্পায়াররা আছেন। আর দিন শেষে খেলোয়াড়দের মতো তারাও তো মানুষ। যা হয়ে গেছে তা নিয়ে এখন আর কোনো কিছু করার নেই।’