বসুন্ধরার বড়ো জয়

মতিন মিয়ার হ্যাটট্টিক

স্পোর্টস রিপোর্টার

আবাহনী গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে যখন মোহামেডানের বিপক্ষে মাঠে নামে সেইসময়ে শিরোপাধারীরা জেনে গিয়েছে নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামে বসুন্ধরা কিংস ৫-০ গোলে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়েছে।

বসুন্ধরা এ জয়ে ২০ খেলায় পেল ৫৮ পয়েন্ট। বসুন্ধরাকে থামিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিল ব্রাদার্স। কিন্তু মাঠে নেমে বড় দলের বিপক্ষে ফুটবল যুদ্ধে যেভাবে লড়তে হয় তা পারেনি ব্রাদার্স। বরং ব্রাদার্সকে উড়িয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা। এই ৫ গোলের সবকটি করেছেন দেশি ফুটবলাররা।

এটা বসুন্ধরার জন্য বাড়তি আনন্দ। কারণ দলের মধ্যে বিদেশি ফুটবলাররাই জয়ের পেছনে বড়ো ভূমিকা রাখেন। কালও করেছেন। চারটি গোলের পেছনে তিন বিদেশি কলিন্দ্রেস, বখতিয়ার এবং মারকোস উত্স হয়ে কাজ করেছেন। সেই সুবাদে বসুন্ধরা গোলের উত্সব করেছে।

সুযোগ পেয়ে স্ট্রাইকার মতিন মিয়া হ্যাটট্টিক করেছেন। খেলার প্রথম গোলটি করেছিলেন ইব্রাহিম। তারপর টানা তিন গোল করেন মতিন মিয়া। খেলার শেষ মুহূর্তে আলমগীর রানা পঞ্চম গোলটি করেন। ব্রাদার্স দুই ম্যাচ আগে আবাহনীর কাছে ৫-২ গোল হজম করেছিল। ২০ খেলায় ব্রাদার্সের ১৬ পয়েন্ট। আবারো রেলিগেশনের বৃত্তে ঢুকে গেল ব্রাদার্স।

কিছুটা নিরাপদে রহমতগঞ্জ

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কাল দিনের প্রথম খেলায় লড়াই করতে নেমে ছিল রহমতগঞ্জ ও বিজেএমসি। রহমতগঞ্জ ৩-২ গোলে বিজেএমসিকে হারিয়ে একলাফে তিনধাপ ওপরে উঠে গেছে। ১২ নম্বরে থাকা রহমতগঞ্জ রেলিগেশনের আতঙ্কে দিন পার করছিল। এদিন বিজেএমসিকে হারিয়ে অনেকটাই ভারমুক্ত হয়েছে।

বিপদ অনেকটা কেটে যাচ্ছে দেখে খেলা শেষে রহমতগঞ্জ ফুটবলার, কোচ ও কর্মকর্তারাও যেন খানিকটা স্বস্তিতে। ১৩ দল নিয়ে আয়োজিত এবারের লিগ হতে দুটি দল নেমে যাবে। এরই মধ্যে বিজেএমসি রেলিগেশন বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। সবার নিচে পড়ে রয়েছে অফিস দলটি। ২১ খেলায় মাত্র একটি জয় পেয়েছে। পয়েন্ট মাত্র ৮।

ডুবন্ত বিজেএমসিকে তুলে আনার জন্য মোহামেডান ছেড়ে যাওয়া নতুন কোচ নাসিরকে দলে নিয়েও কাজ হচ্ছে না। নাসির চেষ্টা করছেন। কিন্তু পেরে উঠছেন না। বিজেএমসি শুরুর দিকে ভালো দল গড়তে পারেনি। তার ওপর নানা সমস্যায় ক্রমেই পিছু হটছে অফিস দল বিজেএমসি। ২০ খেলায় ১১ হারে ক্লান্ত বিজেএমসির ফুটবলাররা। তাদেরই সামনে জয় পাওয়া রহমতগঞ্জ ফুটবলাররা খেলা শেষে মাটিতে সেজদা দিলেন। কর্মকর্তারা এগিয়ে এসে কাদামাটিতে ভরা দলের ফুটবলারদের জড়িয়ে ধরলেন জয়ের আনন্দে। রহমতগঞ্জের পরবর্তী খেলা আরামবাগের বিপক্ষে।

আরামবাগকে জিততে দেয়নি মুক্তিযোদ্ধা

প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের আরেকটি খেলা ছিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের ভেন্যু গোপালগঞ্জে। সেই খেলায় আরামবাগ গোল করে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে ঢাকায় ফেরার স্বপ্ন গুড়িয়ে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা। খেলাটি ১-১ গোলে শেষ হয়েছে। প্রথমার্ধের লড়াই ছিল গোলহীন। ৬৭ মিনিটে ক্যামেরুনের পলএমিলের গোলে এগিয়ে ছিল আরামবাগ। ৮৫ মিনিটে গিনির ফুটবলার কামারার গোলে মুক্তিযোদ্ধা নিশ্চিত হার হতে বেঁচে যায়। আরামবাগ পয়েন্ট টেবিলের ৫ নম্বরে রয়েছে। এখান থেকে আর কোনো দলকে টপকে যাওয়ার সুযোগ দেখছে না। তবে পেছনের দল যেন ছুঁয়ে ফেলতে না পারে সেই লড়াইয়ে তাকিয়ে কোচ মারুফুল হকের আরামবাগ।