ঘন কুয়াশার কারণে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। মাঝ নদীতে ছোট-বড় ৬টি ফেরি আটকা পড়েছে, যাতে রয়েছে প্রায় ১০৫টি যানবাহন।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ১২টা থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হলে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।
ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই নৌ-রুটে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন দেখা দেয়। রাত ১১টার পর কুয়াশার মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় চ্যানেল এবং বিকন বাতি কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। নৌপথের মার্কিং পয়েন্টও অস্পষ্ট হয়ে যায়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কুয়াশার ঘনত্ব কমলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, পাটুরিয়া প্রান্তে ৩ নম্বর ঘাটে কেরামত আলী (লোড), কপোতি (লোড), ৪ নম্বর ঘাটে শাহপরান (খালি), গৌরী (লোড) ও ৫ নম্বর ঘাটে ভাষা শহীদ ডা. গোলাম মাওলা (লোড) অবস্থান করছে। এ ছাড়া দৌলতদিয়া প্রান্তে ৩ নম্বর ঘাটে বিএস মতিউর রহমান (খালি), ৪ নম্বর ঘাটে কুমিল্লা (লোড), এনায়েত পুরী (খালি) ও ৭ নম্বর ঘাটে বরকত (খালি), হাসনাহেনা (লোড) অবস্থায় নোঙ্গর করে আছে। তাছাড়া, মাঝনদীতে অবস্থান করছে বিএস জাহাঙ্গীর ও বাইগার ফেরি।
এদিকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাসের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি যানবাহন চালকরা বিপাকে পড়েছেন।
বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাটের মো. সালাম হোসেন (এজিএম) জানিয়েছেন, কুয়াশা কেটে গেলে দ্রুত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। তবে কুয়াশার ঘনত্ব বেশি থাকায় কখন ফেরি চলাচল শুরু করা যাবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।