পৌরসভা দখল ঘিরে গতকাল তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে বেনাপোল সীমান্ত লাগোয়া ভারতের বনগাঁ উত্তাল হয়ে উঠেছে। ভাঙচুর, বোমাবাজি, লাঠিচার্জ ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ঐ এলাকা। সংঘর্ষের সময় বোমাও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। তবে তৃণমূল, বিজেপি দুপক্ষেরই দাবি বনগাঁ পৌরসভা তারা দখল রাখতে পেরেছে।
২২ আসনের বনগাঁ পৌরসভা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। তাদের কাউন্সিলরের সংখ্যা ছিল ২০। এক জন করে কাউন্সিলর ছিল সিপিএম এবং কংগ্রেসের। সম্প্র্রতি ১৪ জন কাউন্সিলর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। পরে তিন জন তৃণমূলে ফিরে যান। ফলে ২২ সদস্যের বোর্ডে নতুন সমীকরণ হয় বিজেপি ১১, তৃণমূল ৯, কংগ্রেস এক ও সিপিএম এক। এরপরই তৃণমূলের চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিজেপি। গতকাল মঙ্গলবার ছিল ভোটাভুটি। অভিযোগ, বিজেপিতে যোগ দেওয়া দুই কাউন্সিলর হিমাদ্রি মণ্ডল ও কার্তিক মণ্ডলের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয়। সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনামা নিয়ে বনগাঁ পৌরসভার সামনে যান হিমাদ্রি ও কার্তিক। কিন্তু তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এ নিয়েই শুরু হয়ে যায় গোলমাল।
বিজেপির অন্য ৯ কাউন্সিলর পৌরভবনে গেলেও অনাস্থার ভোটাভুটি যে ঘরে হওয়ার কথা, সেখানে যাননি। তাঁদের বক্তব্য, দলের দুই কাউন্সিলর হিমাদ্রি ও কার্তিকের জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন। বেলা তিনটা পর্যন্ত সময় ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপির কাউন্সিলররা অংশ না নেওয়ায় তারা অনাস্থা প্রমাণ করতে পারেননি। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, তাদের কাউন্সিলরদের বনগাঁ পৌরসভার ভেতরে তালাবন্দি করে রাখা হয়েছিল। বিধানসভা ভোটে তৃণমূল জিতলেও সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ কেন্দ্রটি জিতেছে বিজেপি। তারপর থেকেই সেখানে অশান্তি, গোলমাল চলছে।