মিউচ্যুয়াল ফান্ডে নগদ লভ্যাংশ দিতে হবে

প্রস্তাবিত দরেই শেয়ার কিনতে হবে বিডারকে Åআইপিওর মাধ্যমে

মূলধন উত্তোলনের ন্যূনতম সীমা নির্ধারণ করেছে বিএসইসি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ হিসেবে আর রি-ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট (আরআইইউ) দিতে পারবে না। ফান্ডগুলোকে নগদ লভ্যাংশই দিতে হবে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৬৯৩তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সভায় লকইনের মেয়াদ বাড়ানোসহ আরো কিছু সংশোধনী চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাবের ওপর জনমত জরিপ শেষে আইপিও বিধান মঙ্গলবার চূড়ান্ত করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এর ফলে নতুন রূপ পেতে যাচ্ছে আইপিওর বিধিবিধান। সভা শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইপিওতে কোটা সুবিধা নিতে হলে সেকেন্ডারি বাজারে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের (ইআই) নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিয়োগ থাকতে হবে। তা না হলে কোনো ইআই তাদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ারের কোটা সুবিধা পাবে না। আর সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগের পরিমাণ কত হবে, তা কমিশন প্রতিটি পাবলিক ইস্যুর সম্মতিপত্রে উল্লেখ করে দেবে।

আইপিওর আগে ইস্যু করা মূলধনের ৮০ শতাংশ ব্যবহার না করে পাবলিক ইস্যুর প্রস্তাব করা যাবে না। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে অভিহিত মূল্যের আইপিওর ক্ষেত্রে পাবলিক ইস্যুর পরিমাণ হবে ন্যূনতম ৩০ কোটি কিংবা ইস্যুয়ার কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশর যেটি বেশি হয়। তবে ইস্যু-পরবর্তী মূলধন কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা হতে হবে। এর মানে, আইপিওর আগে কোম্পানির ন্যূনতম ২০ কোটি টাকার মূলধন থাকতে হবে। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে ইস্যুয়ার কোম্পানির এক বছরের নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোর শর্তটি বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ হবে কমপক্ষে ৭৫ কোটি টাকা। বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের কোটা বিডিংয়ের মাধ্যমে পুরোপুরি বিক্রি না হলে সেই আইপিও বাতিল হয়ে যাবে। পাবলিক ইস্যু তালিকাভুক্তির আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে পাবলিক ইস্যু রুলস বা অন্যান্য সিকিউরিটিজ আইন কিংবা অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড না মেনে থাকলে এ বিষয়ে কমিশনের কাছে পর্যবেক্ষণ পাঠাতে হবে। এ সময়ের মধ্যে মতামত না পাঠালে এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের কোনো মতামত নেই বলে ধরে নেওয়া হবে।

পাবলিক ইস্যুর বিডিং চলাকালে বিডারদের নাম কিংবা তাদের প্রস্তাবিত দর প্রদর্শন করা যাবে না। বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর বিডিংয়ে ইআইদের তাদের বিডের শতভাগ মূল্য বিডিং পরিচালনাকারী এক্সচেঞ্জের কাছে জমা দিতে হবে। বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর বিডিংয়ের বিডাররা যে মূল্যে যে পরিমাণ শেয়ার বিড করবেন, তাদের সেই মূল্যে সে পরিমাণ শেয়ার কিনতে হবে। বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর বিডিংয়ে শেয়ার বরাদ্দ সর্বোচ্চ মূল্যস্তরে শুরু হয়ে ক্রমান্বয়ে তা নিচের দিকে আসবে। যে মূল্যে শেয়ার শেষ হবে, তা কাট অব প্রাইস বা প্রান্তসীমা হিসেবে গণ্য হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কাট অব প্রাইস থেকে ১০ শতাংশ কমে শেয়ার কিনতে পারবেন। বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর বিডিংয়ের ক্ষেত্রে যদি কাট অব প্রাইসে একাধিক বিডারের বিড থাকে, সেক্ষেত্রে যে বিডার আগে বিড করেছে, তাকে প্রথমে শেয়ার দেওয়া হবে। বিডিংয়ের চূড়ান্ত ফল, মূল্য ও বরাদ্দ করা শেয়ারের সংখ্যাসহ যারা শেয়ার পেয়েছেন, তাদের ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে ইস্যুয়ার, ইস্যু ম্যানেজার ও স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হবে। অকৃতকার্য বিডারের টাকা সর্বোচ্চ পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ ফেরত দেবে। আর কৃতকার্য বিডারের টাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে সর্বোচ্চ পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ইস্যুয়ারের ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে। বিডিংয়ের পরে খসড়া প্রসপেক্টাস ও সব কাগজপত্র পাওয়া সাপেক্ষে কমিশন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির অনুমোদন দেবে। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে অভিহিত মূল্যে পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে ইআইদের বিদ্যমান কোটা ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩০ শতাংশ হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের (এনআরবি ব্যতীত) কোটা ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশে দাঁড়াবে। অন্যদিকে বুক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ইআইদের বিদ্যমান কোটা ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৫০ শতাংশ হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিদ্যমান কোটা ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়াবে। ফিক্সড প্রাইসের পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে ৬৫ শতাংশের কম আবেদন জমা পড়লে ইস্যু বাতিল হয়ে যাবে। আর সম্মিলিতভাবে আবেদনের পরিমাণ ৬৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ১০০ শতাংশের কম হলে বাকি শেয়ার আন্ডাররাইটার কিনে নেবে। কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের সাধারণ শেয়ারের ওপর লকইনের সময় স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুর প্রথম দিন থেকে গণনা করা হবে। এক্ষেত্রে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক এবং ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি শেয়ার ধারণকারীদের শেয়ারের ওপর তিন বছরের লকইন আরোপ করা হয়েছে। একইভাবে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক এবং ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি শেয়ার ধারণকারীদের হস্তান্তর করা শেয়ারের ওপরও লকইন তিন বছর করা হয়েছে। চার বছর কিংবা তার আগে শেয়ার বণ্টনের মাধ্যমে প্রাপ্ত শেয়ারের ওপর এক বছর এবং অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড কর্তৃক ধারণকৃত শেয়ারের ওপরও এক বছরের লকইন আরোপ করা হয়েছে। আর এর বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্রে শেয়ারের ওপর লকইন হবে দুই বছর। পাবলিক ইস্যুর আবেদনের সময় ইস্যুয়ারকে এর আগে নগদে উত্তোলন করা মূলধনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের কিংবা নিরীক্ষকের সার্টিফিকেট ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট দাখিল করতে হবে।