বাবুগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে পিতা-মাতার মৃত্যুতে চার শিশুর অনিশ্চিত জীবন

বরিশাল অফিস

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রমজানকাঠী গ্রামে বৃহস্পতিবার বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া ভ্যানচালক কামাল হোসেন (৩০) ও মমতাজ বেগম (২৫) দম্পতির চারটি অবুঝ শিশুর জীবন অনিশ্চিত হয়ে গেছে। পিতা-মাতাহীন ঐ চার শিশু কেবল ফ্যাল-ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকছে।  এক বছরের দুধের শিশু জেসমিন তার মাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে বুকের দুধ পানের জন্য। ছয় বছর বয়সের হাবিবা ও সাত বছরের হামিদা এখনো বোঝে না তার মা-বাবা পৃথিবীতে নেই। সে তাদের বাড়িতে আশা শত-শত মানুষের মুখের দিকে তাকিয়েই থাকছে। ১০ বছরের পুত্রসন্তান রবিন মৃত বাড়িতে আসা মানুষের কাছে জিজ্ঞাসা করছেন বাবা-মায়ের কথা। তার একটাই প্রশ্ন—তার পিতা-মাতা কি আর বাড়িতে আসবেন না? বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার একদিন পর গত শুক্রবার এমন আবেগঘন পরিবেশ ছিল বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের রমজানকাঠী গ্রামে। সেখানে উপস্থিত অসংখ্য মানুষ জানান- পিতা-মাতার মৃত্যুর পর ওদের আর কেউ রইলো না। তারা অভিযোগ করেন বরিশাল পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২-এর কর্মরত বিদ্যুত্ কর্মীদের দায়িত্ব অবহেলার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে এ দরিদ্র পরিবারটি। এখন তাদেরই এ ঘটনার দায়-দায়িত্ব নিতে হবে বলে এলাকাবাসী জানান।

১১ জুলাই জমিতে পশুর খাবার আনতে গিয়ে জমিতে বিদ্য্যুতের তার ছিঁড়ে পড়লে মমতা বেগম বিদ্যুতায়িত হয়ে ছটফট করতে থাকে। খবর পেয়ে স্বামী ভ্যানচালক কামাল হোসেন তাকে বাঁচাতে ছুটে গেলে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে ছটফট করতে থাকে। স্থানীয় লোকজন তাদের দুজনকে উদ্ধার করে উজিরপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।