লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়ক
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর-রায়পুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সংস্কার কাজ এক বছরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও গত ২০ মাসেও শেষ হয়নি সংস্কার কাজ। ব্যস্ততম আঞ্চলিক এ মহাসড়কের ২০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজে ধীরগতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে, লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়কটির কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একাধিকবার এ সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল স্থানীয় লোকজন। এদিকে, সড়কটির দুই পাশে ধানের চারা রোপণের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদ করেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, গত কয়েক মাস সড়কটির সংস্কার কাজ বন্ধ ছিল। এখন আবার বর্ষা মৌসুমে সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করেছেন ঠিকাদার। সংস্কারের জন্য রাস্তার কার্পেটিং তুলে বড়ো বড়ো গর্ত করে কাজ শেষ না করে ফেলে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত করে রাখায় প্রায়ই গাড়ি উলটে ঘটছে দুর্ঘটনা।
সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার উন্নয়ন সভায় ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন হাওলাদার লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণ কাজের অনিয়ম ও ধীরগতির কথা তুলে ধরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলীর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এখন বর্ষায় কাদায় ভরে গেছে পুরো সড়কটি। এতে কাদার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। এছাড়া ঠিকাদারের মনগড়া ট্রাফিক ব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
সওজ সূত্র জানায়, সড়কটি এখন ১৮ ফুট চওড়া রয়েছে। এটি ২৪ ফুট করা হবে। দুই পাশে ছয় ফুট সম্প্রসারণের পাশাপাশি পাঁচ ফুট করে ১০ ফুট আরো মাটি ফেলে ভরাট করা হবে। লক্ষ্মীপুর থেকে রায়পুরের বর্ডার পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার নির্মাণের জন্য ৫৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৩ হাজার ৫৭ টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে মাটি ব্যবহারের জন্য ১০ কোটি ৪০ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩৯ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুমিল্লার রানা বিল্ডার্স। পরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজে চুক্তিবদ্ধ হয় হাসান বিল্ডার্স ও মেসার্স সালেহ আহমেদ। তারা ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কাজ শুরু করে।
ঐ কাজের ঠিকাদার আজিজুল করিম বাচ্চু নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সংস্কার কাজে ব্যবহারকৃত যন্ত্রপাতির সমস্যা ও মন্ত্রণালয়ের কিছু কাজ অনুমতি না পাওয়ার কারণে সড়কের কিছু অংশের কাজ দেরি হচ্ছে। শিগগিরই বাকি কাজগুলো শেষ করা হবে।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ্রত দত্ত জানান, নিয়ম মেনে কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিতে সংস্কার কাজে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সঠিকভাবে দ্রুত সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সড়ক নির্মাণের পর কোনো সমস্যা হলে তিন বছর পর্যন্ত ঐ ঠিকাদারকেই তা সংস্কার করে দিতে হবে। অব্যবস্থাপনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।