ইত্তেফাক রিপোর্ট
স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান বাজেট গত বছরের তুলনায় আকারে বেশি হলেও তা অন্যান্য দেশের তুলনায় এমনকি নিম্ন আয়ের দেশের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে কম। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ব্যয়ের কারণে বছরে প্রায় ৫০ লাখ লোক দরিদ্র হয়, যার মূল কারণ নিজ পকেট থেকে খরচ বেশি হওয়া। এটি দিনে দিনে বাড়ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।
গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাস্থ্য আন্দোলনের সহযোগিতায় পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের (এইচএফবিডি) আয়োজনে গোলটেবিল আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম মোজাহেরুল হকের সঞ্চালনায় বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপাস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শাফিঊন নাহিন শিমুল। তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) রোগ যেমন ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হার্টের রোগ—এসব বেড়ে যাওয়া এবং এর সঙ্গে লাগামহীন ওষুধের মূল্যও বেড়ে যাওয়ার কারণে বিপর্যয় ব্যয় বেড়েছে।
ড. শাফিঊন নাহিন জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের সেবাগুলো সম্প্রসারণের চাহিদার দিকে নজর রেখে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধি ও চাহিদার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাজেট বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিকে দায়ী করেন। বক্তারা বলেন, এ ধরনের বাজেট প্রবণতা এসডিজি লক্ষ্য এক ও তিন অর্জনে সক্ষম নয়। তা ছাড়া বাজেট বাস্তবায়নে প্রশাসনের অদক্ষতা, শেষের দিকে তড়িঘড়ি করে বাজেটের টাকা খরচ করা এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ে টাকা খরচ করেও তা চলমান না রাখতে পারার কারণে সীমিত বাজেটেও পুরোপুরি সুবিধা ভোগ করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তারা।
বৈঠকে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. শারমিন ইয়াসমিন। আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সের নন-কমিউনিক্যাবল ডিজিস বিষয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এস এ মনসুর আহমেদ। পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারপারসন ডা. সমীর কুমার সাহা, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক (প্রোগ্রাম) গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।