বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন (৫০) মারা গেছেন।
বৃহম্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিএনপির এ নেতার মৃত্যুর খবরে বাগেরহাটের ধোপখালীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বাগেরহাটের আরেক বিএনপি নেতা হায়দার আলীর বাড়ির সামনে জড়ো হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় যৌথ বাহিনী। এরপর বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বাগেরহাট—টিতলমারী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এসময় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে হয়ে যায় সব দোকানপাট।
নিহত বিএনপি শওকাত হোসেনের ভাই লিয়াকত হোসেনের অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনে প্রতিদ্বন্দ্বীপ্রার্থী আফজাল হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমি ও আমার ভাই ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নব নিবার্চিত সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেনসহ ১৫ জন নেতা—কর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে আমিসহ আমার ভাই শওকত হোসেন ও যুবদল নেতা জুয়েল রানাকে প্রথমে বাগেরহাট ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শওকতকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকার পপুলার হাসপাতালে পাঠানো হয়। ৯ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আফজাল হোসেন বলেন, ‘শওকতের ওপর হামলার সঙ্গে আমি বা আমার অনুসারী কোনো নেতাকর্মী জড়িত না।’
কচুয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম তৌহিদুল ইসলাম জানান, ধোপাখালীতে বিএনপির দুই গ্রুপের মারামারির বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তদন্ত হচ্ছে। ২/১ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। এরমধ্যে ওয়ার্ড বিএনপির নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মারা গেছেন। বিষয়টি জেলা বিএনপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিমকে জানানো হয়েছে। ধোপাখালীতে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতার্মীদের শান্ত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থল রয়েছি। কচুয়া, বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পরিস্থিতি এখনো পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। আফজাল গ্রুপের সদস্য হায়দার আলীকে তার গ্রামের বাড়ী থেকে আটক হয়েছে। বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ আরো দুইজনকে আটক করেছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দেপাড়া বাজার এলাকায় দুজন সভাপতি প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের। এতে ধোপাখালী ইউনিয়ন সভাপতি প্রার্থী মো. লিয়াকত হোসেনসহ অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হন।