রাতে বাঘের গর্জন, সকালে পায়ের ছাপ

বাগেরহাটের শরণখোলার কটকা অভয়ারণ্যে দুটি বাঘের বাচ্চাকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় রাতে শোনা যাচ্ছে বাঘের গর্জন। পাশাপাশি কটকা অফিসের আশপাশে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বনরক্ষীদের মাঝে। 

বনরক্ষীরা জানান, কটকা অভয়ারণ্যে সম্প্রতি সময়ে বাঘের আনাগোনা বেড়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই কটকা ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় রাতে শোনা যাচ্ছে বাঘের গর্জন। তাছাড়া একটি বাঘিনীকে বাচ্চা নিয়ে ঘুরাঘুরি করতে দেখা গেছে। এর আগেও বড়কটকা এলাকায় একটি বাঘকে খাল পাড়ি দিয়ে গহীন বনের দিকে চলে যেতে দেখেছেন পর্যটকরা। দিনের বেলা আশপাশেও দেখা গেছে বাঘের পায়ের ছাপ। এ অবস্থায় রাতে অফিস থেকে বাইরে বের হচ্ছেন না বনরক্ষীরা। চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দে্রর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার মো. সোয়েবুর রহমান সুমন শুক্রবার সকালে  মুঠোফোনে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কটকা ফরেষ্ট অফিসের কাছাকাছি রাতে একটি বাঘিনীকে দুটি বাচ্চাসহ দেখা যাচ্ছে। বাঘের ডাকাডাকিতে রাতে ভয়ে  কেউ অফিস থেকে বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেননা।

তাছাড়া মঙ্গলবার সকালে খুলনার একটি পর্যটকবাহী জাহাজ “দি সেইল”এর পর্যটকেরা বড়কটকা খাল অতিক্রমকালে একটি বাঘকে খাল  সাতরে বনের অপর পাড়ে উঠে গহীন বনে চলে যেতে দেখেছেন। বাঘের খাল সাতরে যাওয়ার দৃশ্য দেখে পর্যটকেরা  বাঘের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ বাঘ গণনায় সুন্দরবনে ১২৫টি বাঘের সন্ধান মিলেছে। এরমধ্যে মোট সংখ্যার ৫৯ শতাংশ বাঘ বাগেরহাট জেলার সুন্দরবনে রয়েছে। এবারের গণনায় ২১টি বাচ্চা বাঘের ছবি পাওয়া যায়। বাচ্চা বাঘের মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার কারণে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) রানা দেব  বলেন, সুন্দরবনে আগের চেয়ে বাঘ বাড়ার আলামত পাওয়া যাচ্ছে। বনরক্ষী ও  জেলেরা সুন্দরবনে অনেক জায়গায় মা বাঘের সঙ্গে বাচ্চা বাঘ দেখতে পাচ্ছেন।