গ্রামীণ ফোন ও রবির ব্যান্ডউইথের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথের উপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল তা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। তবে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও অপারেটর দুটির এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল বুধবার বিটিআরসি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক একথা জানান।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে অপারেটর দুটির ব্যান্ডউইথ প্রত্যাহার হয়ে যাবে (তারা ফিরে পাবে)। তাহলে টাকা কী ভাবে আদায় হবে? আমাদের আইনে যা আছে, তা আমরা প্রয়োগ করবো। আমাদের আইনে যে ব্যবস্থা দেওয়া আছে, তা প্রয়োগ করে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে। এটুকু সিদ্ধান্ত হয়েছে। টাকাটা পাবলিক ডিমান্ড। রাষ্ট্রীয় টাকা। এই টাকা মাফ করার কোনো সুযোগ  নেই।’ তিনি বলেন, ‘এই টাকা অপারেটরগুলোর না দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তেমনি বিটিআরসিও না  নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আইসিটি উপদেষ্টার নির্দেশে গ্রাহক ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে অপারেটর দুটির এনওসি ইস্যু করা আমরা দ্রুত বন্ধ করে দেবো। তাদের কোনো ধরনের এনওসি দেওয়া হবে না। এমনকি নতুন কোনো প্যাকেজেরও অনুমোদন দেওয়া হবে না। এরপরও যদি টাকা আদায় না হয়, তাহলে আমরা প্রশাসক নিয়োগের কথাও চিন্তা করতে পারি।’ গতকাল বিকেলে চিঠি দিয়ে ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এনওসি বন্ধের চিঠি ইস্যু করা হয়নি।

বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় গত ৪ জুলাই গ্রামীণফোন ও রবির           ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দেয় বিটিআরসি। গ্রামীণফোনের ৩০ ভাগ এবং রবির ১৫ ভাগ ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দিতে ঐদিনই কয়েকটি আইআইজিকে (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) নির্দেশনা দেয় বিটিআরসি। দুই অপারেটরের কাছে বিটিআরসির পাওনা সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ও রবির কাছে ৮৬৭ কোটি টাকা।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। মন্ত্রী, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে অপারেটর দুটির ব্যান্ডউইথ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।