চাঁদার দাবিতে ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা, সাবেক ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে চাঁদার দাবিতে মো. মানিক ব্যাপারী নামে এক কৃষকের তরমুজ ভর্তি একটি ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই মামলার প্রধান আসামি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন। এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলামসহ চার জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫ জন অজ্ঞাত আসামি করে বাউফল থানায় মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী কৃষক।

সাইফুলের বাবা নাজিরপুর তাঁতের কাঠি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. এনায়েত হোসেন খানকেও (৫৮) এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার সাইফুল নাজিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে যুবদলের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলাসহ আরও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ক্ষেত থেকে ৮৬০ পিচ বড় আকারের তরমুজ কেটে ট্রলারে উঠিয়ে বরিশাল নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষক মো. মানিক ব্যাপারী। ওই দিনই দুপুর ১২ টার দিকে বিএনপি নেতা এনায়েত হোসেনের ছেলে সাইফুল দলবল নিয়ে ট্রলারের চালক মো. আরিফকে (১৮) মারধর করে। এক পর্যায়ে চর রায় সাহেব থেকে তরমুজ ভর্তি ওই ট্রলারটি ছিনিয়ে নিয়ে নিমদী লঞ্চঘাটের দক্ষিণপাশে ইটভাটার কাছে নিয়ে নোঙর করে রাখে। খবর পেয়ে কৃষক মানিকব্যাপারী ট্রলারসহ তরমুজ ফেরত চাইলে তিনলাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সাইফুল ও তার লোকজন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তরমুজ অন্য ট্রলারে উঠিয়ে নিয়ে যায় সাইফুল।

মানিক ব্যাপারী অভিযোগ করেছেন, এ বিষয়ে কাউকে জানালে কিংবা মামলা করলে তাকে খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় সাইফুল।

তবে সাইফুলের বাবা ও বিএনপি নেতা এনায়েত হোসেন বিষষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার ও তার ছেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা সত্য নয়।

বাউফল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাহাবুদ্দিন হাওলাদার বলেন,‘সরেজমিনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।’

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের খুব কম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।’