মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদনপত্র দিতে এসে শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হওয়ার দুই ঘণ্টার পরে ছাড়া পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস।
বুধবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিল্টন বিশ্বাসকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রইছ উদদীনের কাছে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে আসেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আটককারী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার ঘটনায় অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাসের নামে দুইটি মামলা রয়েছে। এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নিকট একটি চিঠি নিয়ে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার আত্মীয় পরিচয় দেয়া সুশান্ত বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে ছাত্রদল নেতা বলে পরিচয় দেন। তবে ছাত্রদলে তার কোনো পদ-পদবি নেই বলে জানা গেছে।
জানা যায়, কট্টর আওয়ামীপন্থী বাংলা বিভাগের এই অধ্যাপক জয় বাংলা শিক্ষক সমাজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সেক্রেটারি।
অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস বলেন, আমার নামে করা দুটি ভিত্তিহীন মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আমি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠি দিতে এসেছিলাম। কিছু লোক আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘিরে ধরে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আমি ক্যাম্পাস থেকে ফিরে আসি।
আটকের দুই ঘণ্টা পর সন্ধ্যা দিকে প্রক্টর অফিস থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বলেছেন প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক। তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবেই বলছি, ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে কোনো শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থীকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে, তা আমরা হতে দিতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে উনাকে যদি পুলিশ আটক করে কিংবা আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়, সেটা ভিন্ন বিষয়।’