জাপানের কিয়োটোতে একটি অ্যানিমেশন স্টুডিওতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পুলিশের বরাত দিয়ে জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে কিয়োটো অ্যানিমেশন কোম্পানির স্টুডিওতে এক ব্যক্তি গোপনে প্রবেশ করে এক ধরণের তরল পদার্থ স্প্রে করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই পদার্থ ছিল পেট্রোল। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের
যেভাবে অগ্নিসংযোগ
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিন তলা ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। কিয়োটোর এক পুলিশ সদস্য সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, এক ব্যক্তি তরল পদার্থ স্প্রে করে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। দমকল বাহিনী ধারণা করছে, এই পদার্থ পেট্রোল হবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে অগ্নস্ফুিলিঙ্গ দেখা যায় এবং পুরো বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দমকল বাহিনী ৩৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অন্তত ১০ জনকে ভবনের সিঁড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তারা বলেছেন, আগুন লাগার সময় ভবনে প্রায় ৭০ জন ছিলেন। বিভিন্ন খবর থেকে জানা যায়, হাসপাতালে প্রায় ৩৬ জন চিকিত্সা নিচ্ছেন যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
সন্দেহভাজন সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
ঘটনাস্থলে পুলিশ ছুরিও পেয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে ৪১ বছর বয়সী একজনকে আটক করা হয়েছে। জানা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঐ সংস্থার সাবেক কর্মচারী ছিলেন না এবং স্টুডিওর সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পর্কও ছিল না। কয়েকটি জাপানি পত্রিকায় প্রকাশিত খবর দাবি করেছে, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেখানকার একটি স্টেশনের দিকে দৌড়ে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ৫৯ বছর বয়সী এক নারী কিয়োদো সংবাদ সংস্থাকে জানান, চুল ঝলসানো অবস্থায় এক ব্যক্তি মাটিতে পড়েছিল এবং আশেপাশে রক্তাক্ত পদচিহ্ন ছিল। উল্লেখ্য, কিয়োটো অ্যানিমেশন যা কিওআনি হিসেবও পরিচিত, ১৯৮১ সালে নির্মিত হয়।