সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে আরো কঠোর অবস্থান নিতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ডিসিদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে ডিসিদের প্রস্তাব সম্পর্কে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ঐ কথা বলেন।
ডিসিদের দীর্ঘদিনের প্রস্তাব ছিল তাদের অধীনে পৃথক পুলিশ টিম গঠনের। বস্তুত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সে প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ডিসিদের প্রস্তাবে সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের অধীনে ট্রাস্ট ব্যাংকের আদলে একটি ব্যাংক করার বিষয়টি আশ্বাস দিয়েছেন বিবেচনার।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের শেষদিনে বেশকিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়। মোট ৩৩৩টি প্রস্তাব ছিল এবার ডিসিদের। যেগুলো গৃহীত হবে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য মেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য একটি দক্ষ, জবাবদিহিতামূলক ও সেবামুখী জনপ্রশাসন গড়ে তোলা, যাতে জনগণের সন্তোষজনক সেবা নিশ্চিত করা যায়। প্রতিমন্ত্রী এ সময় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রশাসনকে জনগণের সেবক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রযুক্তির অধিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ডিসিদের কী ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ যেভাবে আমরা দমন করছি, সেদিকে ডিসিরাও খেয়াল রাখবেন। যাতে কোনো সন্ত্রাসী, জঙ্গি, চরমপন্থির আবির্ভাব আর না ঘটে। মাদক নিয়ে আমরা যে অভিযান চালাচ্ছি, তাদের জানিয়েছি, আমাদের অভিযান তো চলবেই। সবাইকে নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তারা কাজ করবেন।
জেলা প্রশাসকরা মোবাইল কোর্টের পরিধি বাড়ানো এবং সার্বক্ষণিক পুলিশ ফোর্স চেয়েছেন— এ ব্যাপারে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মোবাইল কোর্টের পরিধি যে রকম প্রয়োজন, তা হয়ে গেছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন বলবত্ হয়েছে, সে জন্য কাজ হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের আওতায় যতটুকু আনা হয়েছে, সেটা নিয়েও কাজ হচ্ছে। পুলিশ সব সময় জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ সব জায়গায় কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ে ডিসিরা কী অসুবিধা ভোগ করছেন ও কীভাবে কাজ করলে তারা আরো অধিক স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন—সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডিসিরা যেগুলো বলেছেন সবগুলোই যুক্তিসঙ্গত। এগুলো এরই মধ্যে আমরা বাস্তবায়নের কাজ করেছি, বাকিগুলোরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি ইতিমধ্যে তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেগুলো বাকি রয়েছে সেগুলোও আমরা করে (বাস্তবায়ন) ফেলব। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ এবং অন্যান্য কার্যক্রম জেলা প্রশাসকেরা করছেন সেগুলো যেনো অব্যাহত রাখেন সে বিষয়ে বলা হয়েছে।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিসিরা প্রতিবছরই প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা নেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান। মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন—সেই জায়গায় ডিসিরা কাজ করবেন। আবার সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ যেভাবে আমরা দমন করে চলেছি, সেসব বিষয়ে তারা খেয়াল রাখবেন। যাতে করে আবার যেন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থিদের আবির্ভাব না ঘটে।
মাদক নির্মূলে আলাদা ফোর্স গঠনের দাবি ছিল জেলা প্রশাসকদের—এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মাদক-সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে যেহেতু পুলিশ সবসময় প্রশাসককে সহযোগিতা করে সেহেতু আলাদাভাবে ফোর্স গঠনের প্রয়োজন নেই। নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে জেলা প্রশাসকদের আলাদা কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না—এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তাদের আলাদা কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
জনপ্রশাসন : জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সেবামুখী ও জনকল্যাণকর জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসকদের আরো কার্যকরী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ বিভিন্ন সেবাপ্রাপ্তির জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অফিসের ওপর নির্ভরশীল। এ সকল অফিসের ওপর জনগণের অনেক আস্থা রয়েছে। তাই তাদেরকে যথাযথ সেবা প্রদান করে মাঠ প্রশাসনকে আরো জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে হলে জেলা প্রশাসকদের অধিক সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী প্রয়োজনে সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে মাঠ প্রশাসনকে কীভাবে আরো জনবান্ধব করে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়গুলো উদ্ভাবনের জন্যও মাঠ প্রশাসনে কর্মরতদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রশিক্ষণ কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুষ্ঠুভাবে কর্মসম্পাদনে সহায়তা করে। তিনি এ সময় জনপ্রশাসনকে আরো গতিশীল ও জনমুখী করে গড়ে তুলতে মাঠপর্যায়ে কর্মরতদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।