সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে চট্টগ্রামের ডিমের পাইকারি বাজার। এটি ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী করে তুলছে। এখন খুচরা বাজারে প্রতি হালি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত এক মাস ধরে ডিমের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে কোনো সিন্ডিকেট নেই। টাঙ্গাইল থেকে চট্টগ্রামে ডিম আনা হয়। সেখানে ৫ সদস্যের সিন্ডিকেটের কারণে চট্টগ্রামে ডিমের দাম বেড়েছে। তাছাড়া অনেক পোল্ট্রি ফার্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিমের উত্পাদনও কম হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় ১২ জন পাইকারি ডিম ব্যবসায়ী রয়েছে। তারাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ডিম সরবরাহ করে থাকে। পাহাড়তলী ছাড়া আর কোথাও ডিমের পাইকারি ব্যবসায়ী নেই। ফলে তারাই বৃহত্তর চট্টগ্রামের ডিমের বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে। স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত ডিমে বৃহত্তর চট্টগ্রামের চাহিদা মেটানো যায় না। ফলে চাহিদার অবশিষ্ট ডিম টাঙ্গাইল থেকে আনতে হয়। ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রতিদিন ২৫/৩০ লাখ ডিমের চাহিদা রয়েছে।
জানা যায়, কুমিল্লা এলাকায় মহাসড়কের পাশে ডিম মজুদের কয়েকটি হিমাগার রয়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা টাঙ্গাইল থেকে ডিম এনে এসব হিমাগারে মজুদ করে। কম দামে ডিম কিনে হিমাগারগুলোতে মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হিমাগারে ২/৩ মাস পর্যন্ত ডিম মজুদ রাখা যায়। এসব হিমাগারে এখনো প্রচুর ডিম মজুদ রয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। নগরীর খুচরা পাইকারদের অভিযোগ, চাহিদা অনুপাতে ডিম সরবরাহ পাচ্ছি না। ফলে খুচরা বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। পাহাড়তলী এলাকায় ১২ জন পাইকারি ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের কাছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের খুচরা ডিম বিক্রেতারা জিম্মি হয়ে পড়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার ডিম ব্যবসায়ী মো. হুমায়ূন কবির ইত্তেফাককে বলেন, আমরা ৫ পয়সা লাভে ব্যবসা করি। মূলত:টাঙ্গাইলের ৫ জন ডিম ব্যবসায়ী চট্টগ্রামের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কারণে চট্টগ্রামের ডিমের বাজারে দামের উত্থান-পতন হয়ে থাকে। পাইকারিতে আমাদের ১০০ ডিম কিনতে পড়ে ৮৯০ টাকা। ভারতে আমাদের দেশের চেয়ে ডিমের দাম কম। ডিম আমদানি করা যায় না বলে পারছি না। তবে দেশে চাহিদার তুলনায় ডিম উত্পাদন কম হচ্ছে। লোকসানের কারণে শত শত পোল্ট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। ডিমের বাজার নিয়ে সরকারিভাবে যথাযথ তদারকি প্রয়োজন।
জানা যায়, চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে অনেক পোল্ট্রি ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ডিম উত্পাদন কমে গেছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল হক ইত্তেফাককে বলেন, দীর্ঘদিন ডিমের দাম কম ছিল। ফলে খামারিরা ন্যায্যমূল্য পায়নি। এতে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম জেলায় ৪৭৫টি পোল্ট্রি খামার ছিল। এর মধ্যে ৬৫টি পোল্ট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। গত বছর চট্টগ্রামে পোল্ট্রি খামার থেকে ৩০ কোটি ডিম উত্পাদন হয়েছিল।
বিভিন্ন খাতে ডিমের ব্যবহার হয়ে থাকে। দাম বৃদ্ধির কারণে ডিম দিয়ে উত্পাদিত খাদ্যপণ্যের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বেকারি খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতে প্রচুর ডিম ব্যবহার হয়। ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের জি.এম. এম এ ছবুর বলেন, আমাদের প্রতিদিন ২০/২৫ হাজার ডিম লাগে। প্রতিটি ডিম ৯ টাকার উপরে কিনতে হচ্ছে। বেকারির প্রতিটি পণ্যে ডিম ব্যবহার করতে হয়। এতে আমাদের উত্পাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।