পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লা নগরীর প্রধান সড়কের পাশাপাশি অলিগলির সরু সড়কগুলোও যেন অবৈধ (লাইসেন্সবিহীন) ব্যাটারিচালিত রিকশা, মিশুক, ইজিবাইক ও সিএনজির দখলে চলে গেছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে যানজট লেগেই থাকে এসব সড়কে।
এছাড়া যত্রতত্র বৈধ-অবৈধ ছোট-বড় গাড়ির পার্কিং এবং সড়কের পাশে অ্যাম্বুলেন্স ও মোড়ে মোড়ে অঘোষিত স্ট্যান্ডের কারণে যানজট যেন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ১০ মিনিটের পথ আধাঘণ্টায়ও যাওয়া যায় না। এদিকে নগরের যানজট নিরসনে মাত্র ৮০ জন ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে, যা অপ্রতুল। তবে যানজট নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশন, জেলা-পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন হয়নি। নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, নগরীতে চলাচলকারী অবৈধ যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে তা আর কার্যকর হয়নি।
সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, কুমিল্লা নগরীর কেন্দ্রস্থল কান্দিরপাড় থেকে দক্ষিণে টমছম ব্রিজ হয়ে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড যেতে হয়। এক লেনের এ সড়ক বিভিন্ন পরিবহনের বাস ছাড়াও স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-স্টাফ ও শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস, মিনিবাস, সারি সারি অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি, অটোবাইক, লেগুনা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে চলে যায়। রমজানেও কমেনি অবৈধ যানবাহনের দাপট।
অন্যদিকে নগরীর নজরুল অ্যাভিনিউ, বাদুড়তলা, ঝাউতলা, রানীর বাজার, শাসনগাছা, কান্দিরপাড়, রামঘাট, মনোহরপুর, টমছম ব্রিজ চারমুখী সড়কের মোড়, রাজগঞ্জ ও চকবাজার এলাকায় যানজটের একই ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। কান্দিরপাড় মনোহরপুর এলাকার সড়কগুলোর দুই পাশে ঈদকে ঘিরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করায় যানজটের ভোগান্তি বেড়েছে। এসব এলাকায় সড়কের যত্রতত্র সিএনজি, অটোবাইক, রিকশা থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়।
নগরীর নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ বলেন, ‘অবৈধ অটোরিকশা, ইজিবাইকগুলো বেআইনিভাবে শহরে চলাচল করলেও এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। শহরে অবৈধ যানবাহনের দাপট বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ব্যাপারে নগর কর্তৃপক্ষেরও কোনো তদারকি চোখে পড়ে না। টমছম ব্রিজ থেকে কান্দিরপাড় সড়কে ৮-১০ মিনিটের পথ যাতায়াতে কখনো ৩০-৪০ মিনিট লেগে যায়।’
সিটি সূত্র জানায়, যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০২২ সালের ৩০ জানুয়ারি কুমিল্লা সার্কিট হাউজে সভা করে কুসিক কর্তৃপক্ষ, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বয়ে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে আটটি কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এদিকে যানজটে ভোগান্তির বিষয়ে নগর কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক পুলিশের নির্লিপ্ততাকে দুষছেন নগরবাসী।
কুমিল্লা নাগরিক ফোরামের সভাপতি কামরুল আহসান বাবুল বলেন, ‘বৈধ-অবৈধ যানবাহনের চাপে শহরে যানজট অনেকটা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এতে জনগণকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে নগর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তবে কুমিল্লা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক সারোয়ার মো. পারভেজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতর সমাগত। এবার শহরে ক্রেতা সমাগম ক্রমেই বাড়ছে। এতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজি ও অটোরিকশার চলাচলও বেড়েছে। আমরা ৮০ জন ট্রাফিক জনবল দিয়ে যানজট নিরসনে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
সিটির লাইসেন্স পরিদর্শক কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ‘২০২৩ সালে পায়ে চালিত রিকশা ও মিশুক নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ আর বাস্তবায়ন হয়নি। যানবাহনের সকল প্রকার লাইসেন্সই এখন বন্ধ আছে। কখন চালু হবে তা জানা নেই।’
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামছুল আলম বলেন, ‘নগরীর সড়ক যানজটমুক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু হঠাৎ করেই এক দিনে অবৈধ রিকশা-ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ বিষয়ে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে শিগগিরই একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’