ড. পরিতোষ চন্দ্র রায়
বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি এবং ব্যয় কমানোর জন্য দীর্ঘ প্রায় দশ বছর ধরে শিক্ষাবিদ এবং সচেতন অভিভাবকরা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। কিন্তু কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদিচ্ছা এবং সম্মতির অভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ সত্ত্বেও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষা গুচ্ছভাবে নেওয়ার সিদ্ধান্তে আপাতত একমত হয়েছে কৃষি অনুষদ আছে এমন আট বিশ্ববিদ্যালয়। এর বাইরে কৃষি অনুষদ সম্বলিত আরো কোনো প্রতিষ্ঠান থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানকেও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা উচিত। নইলে এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্যেই ব্যাহত হবে বলে মনে করি। যেমন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে কৃষি পড়ানো হয়। এই মহাবিদ্যালয়ে কৃষিতে স্নাতক ভর্তির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুসরণ করে চার বছর মেয়াদি অনার্স কোর্স সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই সনদপত্র প্রদান করা হয়ে থাকে। এই চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রণীত প্রশ্নপত্রেই শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই ফাইনাল পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন। মোট কথা, এই মহাবিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত স্নাতক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যকলাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ীই হয়ে থাকে। কিন্তু স্নাতক ভর্তির সময় ভর্তিচ্ছুদের দুই প্রতিষ্ঠানে আলাদাভাবে দুটো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। তাই ভর্তি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ এবং ব্যয় কমাতে চাইলে সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়কেও এই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা অবশ্য কর্তব্য।
তাছাড়া দুই প্রতিষ্ঠানে আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার আরো নেতিবাচক দিক আছে। আট বিশ্ববিদ্যালয়ে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে অনেকে মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও কৃষির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। কৃষিপ্রধান এই দেশে কৃষির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মেধাবীদের বঞ্চিত করার জন্য দায়ী হবে এই আলাদা ভর্তি পরীক্ষা। তাই কৃষি অনুষদের একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, যারা এই মহাবিদ্যালয়ে কৃষি পড়তে ইচ্ছুক তাদেরও ঐ আট বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পরীক্ষার প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে উত্তীর্ণ হয়েই আসা উচিত। আমরা যদি আন্তরিকভাবে চাই যে ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমুক, তাদের অভিভাবকদের ব্যয় কমুক, তুলনামূলকভাবে মেধাবীরাই কৃষিতে স্নাতক পড়ুক তাহলে সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়কেও এই গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় যুক্ত করতেই হবে। আর যুক্ত করার এই প্রক্রিয়ায় মহাবিদ্যালয়টির অভিভাবক হিসেবে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিতে হবে যথাযথ পদক্ষেপ।
ঠাকুরগাঁও