উপকথা

ইটালির লোককাহিনি পুরস্কার

 

ইটালির এক সুন্দর শহর রোম। সেখানে থাকত এক গরিব নারী বার্থা। আপন বলতে তার কেউ ছিল না। এত বড়ো শহরে বার্থার ভীষণ কষ্টে দিন কাটছিল। কেবল সুতা তৈরিতে সে ছিল বেশ পটু।

একদিন বার্থা কাজের খোঁজে বেরোয়। পথে রোমের রাজা নিরোর সঙ্গে দেখা। বার্থা রাজার অনেক বড়ো রোগমুক্ত জীবন কামনা করে।

নিরো এক বাজে ও নিষ্ঠুর রাজা। দেশের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ভারি অপছন্দের। বার্থার মুখে এমনটা শুনে রাজার মনে প্রশ্ন জাগে।

সরল বার্থা রাজাকে জানায়, ‘খারাপকে আরো খারাপ দিয়ে শোধরানোই প্রকৃতির নিয়ম।’

বিস্মিত রাজা পরদিন সকালে বার্থাকে সুতা তৈরির জিনিসসহ রাজপ্রাসাদে আসার আদেশ দেন।

বাড়ি ফিরেই বার্থা সুতা তৈরিতে লেগে যায়। আর রাজার মজার ইচ্ছার কথা ভাবে। সে আনমনে বলে, ‘আমায় নিশ্চয়ই সুতায় ঝুলিয়ে মারবে। রাজা সবই পারে।’

পরদিন সকালে বার্থা রাজপ্রাসাদে হাজির হয়। রাজা তাকে আমন্ত্রণ জানায়। এক সময় শেষ হয় সুতা তৈরির কাজ। রাজা বার্থাকে সুতার এক কোন প্রাসাদের দরজায় আর এক কোন ধরে সামনের রাস্তায় এগুতে বলে। রাজার এক সিপাহি বার্থার তৈরি সুতার দৈর্ঘ্য মাপে। বার্থা সেইমতো রাস্তার দুই ধারের জমি পায়।

এতোটা জমি! বার্থার বিশ্বাসই হতে চায় না। অভিভূত বার্থা রাজাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মহা আনন্দে প্রাসাদ ছাড়ে। সুতা না বুনেই গোটা জীবন নিশ্চিন্তে কাটাতে পারবে।

রাজার উদারতার কথা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। সারা রোমের গরিব নারীরা বার্থার মতো সম্পদের আশায় রাজপ্রসাদে হাজির হয়।

রাজার উত্তর, বার্থার সুতা তৈরির মতো ভালো সময় আর নেই।

সেই দিন দান করার জোরেই নিরো এক দয়ালু রাজা। এক নারীর শুভ কামনায় এক নিষ্ঠুর রাজার কী আশ্চর্য বদল!

রূপান্তর : কুতুব আজাদ