২০২৪ সালে সাড়া ফেলে দেওয়া ‘লাপাতা লেডিস’, একেবারে গল্পনির্ভর একটি সুপারহিট সিনেমা। শুধুমাত্র শক্তিশালী গল্পের গাঁথুনি দিয়েই দর্শককে ধরে রাখা যায়, সেটি আবারও প্রমাণ করেছিলো এই সিনেমা। রীতিমতো সিনেমার নির্মাতা কিরণ রাও-এর নামে ধন্য ধন্য পড়ে গিয়েছিলো সর্বত্র।
সম্প্রতি ‘লাপাতা লেডিজ’ এর গল্প চুরি করে নির্মাণ করা হয়েছে কি না- এ নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সিনেমা ‘বোরকা সিটি’র গল্পটাই নাকি হুবহু কপি-পেস্ট করেছে ‘লাপাতা লেডিস’! ‘বোরকা সিটি’র একটি ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই অনেকে অভিযোগ তুলছে, এই সিনেমার কাট-কপি-পেস্ট হচ্ছে ‘লাপাতা লেডিস’।
যে সিনেমা অস্কার দৌড়ে যোগ দিয়েছিল, সেই ছবির বিরুদ্ধেই গল্প চুরির অভিযোগ। এর ফলে প্রশ্নের মুখে প্রযোজক-পরিচালক আমির খান এবং কিরণ রাও। এবার সেই বিতর্কে মুখ খুললেন ছবির গল্পের লেখক বিপ্লব গোস্বামী। অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন এই অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপ্লব গোস্বামী জোর দিয়ে জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে চিত্রনাট্যকার সমিতির সঙ্গে ‘লাপাতা লেডিস’-এর সারসংক্ষেপ নিবন্ধন করেছিলেন তিনি যা আরবি সিনেমাটি তৈরি হওয়ার আগেই।
তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে স্ক্রিনরাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের কাছে আমি ‘লাপাতা লেডিস’-এর গল্প জমা দিয়েছিলাম। সেইসময় মধ্যপ্রাচ্যের ছবিটি তৈরি হয়নি। সেই মূল কাহিনি থেকেই ২০১৮ সালে পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবির চিত্রনাট্য লিখেছিলাম। প্রাথমিক অবস্থায় নাম ছিল ‘টু ব্রাইডস’। এমনকি চিত্রনাট্যটি সিনেস্তান স্টোরিটেলার্স প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় ওই বছরই।’
শনিবার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখক বিপ্লব গোস্বামী একটি পোস্ট করে ছবির বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ‘সাহিত্যে ছদ্মবেশ ও পরিচয় বিভ্রান্তি নিয়ে অসংখ্য রচনা রয়েছে। উইলিয়াম শেক্সপিয়র থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পর্যন্ত একাধিক বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিক এই বিষয়টি নিয়ে তাদের সাহিত্য সৃষ্টি করে গেছেন। তাদের দেখানো পথেই আমি হেঁটেছি। লাপাতা লেডিস-এর ক্ষেত্রেও এই বিষয় অবলম্বনেই কাহিনি রচনা করেছিলাম।’
একই সঙ্গে তার দাবি, ‘আমাদের ছবির গল্প ১০০% খাঁটি। ছবির বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই অভিযোগ শুধুমাত্র আমার কাজকে ছোট করেছে তাই নয় ছবির গোটা টিমকেও অপমানে বিদ্ধ করেছে।’
গল্পকার দাবি করেছেন যে, ‘লাপাতা লেডিস’-এর গল্প, সংলাপ, চরিত্র এবং দৃশ্যগুলি বছরের পর বছর ধরে গবেষণা এবং ‘সৎ কাজের চেষ্টা’। পাশাপাশি লিঙ্গ বৈষম্য, গ্রামীণ ক্ষমতার প্রভাব এবং পুরুষ উগ্রবাদ-এর সূক্ষ্মতা সম্পর্কে গভীর ধারণা থেকে উৎসারিত।
অন্যদিকে, বিপ্লব গোস্বামীর দাবির সমর্থনে, পরিচালক কিরণ রাও তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বিবৃতিটি পুনরায় শেয়ার করেছেন।
সম্প্রতি ‘বোরকা সিটি’ নামে মধ্যপ্রাচ্যের এক সিনেমার কিছু ক্লিপ ভাইরাল হয়। ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আরবের ওই ছবির গল্পটা খানিক মিলে যায় কিরণ পরিচালিত ‘লাপাতা লেডিস’-এর সঙ্গে। ‘বোরকা সিটি’তে দেখানো হয়, মুখ ঢাকা থাকায় একজনের স্ত্রী বদল হয়ে যায়। আর তার পর থেকেই ওই ব্যক্তি হন্যে হয়ে বউয়ের খোঁজ করা শুরু করে। আর সেই ছবির ক্লিপ ভাইরাল হতেই বিতর্কের সূত্রপাত। কারণ ‘লাপাতা লেডিস’-এর গল্পটাও ঠিক এরকমই। ঘোমটার ‘গ্যাঁড়াকলে’ বউ-বদলের কাহিনি। যার সঙ্গে ‘বোরকা সিটি’র সঙ্গে মিল পেয়েছিলেন দর্শকেরা।
উল্লেখ্য, ‘লাপাতা লেডিস’ সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রতিভা রন্ত, নিতাংশী গোয়েল এবং স্পর্শ শ্রীবাস্তব। সিনেমাটি আমির খানের অর্থায়নে এবং আমির খান প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত।