কুষ্টিয়ায় ভেড়ামারা উপজেলায় অপহৃত স্কুলছাত্র আশিকের (১৩) বাক্সবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় তার হাত-পা বাঁধা ছিল।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে আশিকের মরদেহ তার প্রতিবেশী মিশুকের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে।
রামচন্দ্রপুর গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে আশিক ধরমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুলছাত্র আশিককে অপহরণ ও হত্যাকারী মিশুক মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
আশিকের বাবা কুতুব উদ্দিন বলেন, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আশিককে বাড়ির পাশের মৃত সামের আলীর ছেলে মিশুক ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে দিয়ে দুইবার সিগারেট কিনিয়ে আনান তিনি। দুপুর পর্যন্ত মিশুকদের বাড়িতেই ছিল আশিক। পরে বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে এক ব্যক্তি আমার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বলেন, ‘তোর ছেলে আশিক আমার কাছে আছে, আধা ঘণ্টার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা ম্যানেজ করে আমাকে দিবি। তা না হলে তোর ছেলেকে আমি মেরে ফেলবো’- এরপর ফোনটা কেটে দেয়।
আরো পড়ুন: কুমিল্লায় প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ
পরে আমি মিশুকদের বাড়ি গিয়ে দেখি আশিক সেখানে নেই। সেই সঙ্গে মিশুকও নেই। এসময় মিশুকের ছোট ভাই আসিফ জানান, আশিক শ্বশুর বাড়ি গেছে। পরে মিশুককে ফোন করা হলে তিনি জানান, তার সঙ্গে আশিক নেই। যে মোবাইল ফোন নম্বর থেকে টাকা চেয়েছে সে নম্বর আসিফের মাধ্যমে চেক করিয়ে দেখি সেটি মিশুকের মোবাইল নম্বর। একদিন পার হলেও ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে আমি থানায় মামলা দায়ের করি। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিশুকদের বাড়ি থেকে আমার ছেলেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর ই আলম সিদ্দিকী জানান, মামলার পর পুলিশ মিশুক ও তার ভাই আসিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরে মিশুকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বাক্স থেকে আশিকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইত্তেফাক/জেডএইচ