ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে কোরবানির পশু মোটাতাজা করার কাজ। জানা গেছে, এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬১৩টি খামারে গরু, খাসিসহ কোরবানির পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে। স্টেরয়েড ব্যবহার না করে স্বাভাবিক পন্থায় পশু মোটাতাজা করতে লোকজনের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।
উপজেলার কল্যান্দী গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, তিনি এ বছর ৮০টি বিভিন্ন আকারের গরু স্বাভাবিক নিয়মে মোটাতাজা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতি বছরই কোনো প্রকার নিষিদ্ধ ওষুধ ছাড়াই গরু মোটাতাজা করে হাটে বিক্রি করে থাকি। এতে বেশি লাভও করা যায়। আমার মতো আরো অনেকেই এভাবে কোরবানির পশু মোটাতাজা করছেন।’ আবুল বাশার জানান, তিনি তার খামারের গরুগুলোকে ভাতের জাউ, ভুসি, খইল ও কাঁচা ঘাস খাওয়াচ্ছেন। এতে তার গরুগুলো বেশ ভালোভাবেই বেড়ে উঠছে। তিনি বিভিন্ন পরামর্শের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
উপজেলার কাদিরদিয়া গ্রামের হানিফ জানান, তিনি প্রতি বছরই গরু মোটাতাজা করে থাকেন। এ বছর তিনি ২৭টি গশু মোটাতাজা করছেন। কোনো বড়ি বা ইনজেকশন ব্যবহার না করেই গরুগুলোকে তিনি বিক্রির জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তুলছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শামীম আহমেদ বলেন, পশুকে অতিরিক্ত স্টেরয়েডের মাধ্যমে মোটাতাজা করা হলে পশুর শরীরে পানি জমবে, গোড়ালি ও লিভার ফুলে যাবে, পশুর সারাক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব হবে, চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরবে ও পশু বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, স্টেরয়েড ব্যবহারের ফলে পশু তিন মাসের মধ্যেই দ্বিগুণ আকার ধারণ করে থাকে, যেটি খুব অস্বাভাবিক এবং এই পশুর মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই আড়াইহাজারের গরু ব্যবসায়ীরা যেন এসব ওষুধ ব্যবহার না করেন সেজন্য তাদের তিনি পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাউছার বলেন, কোরবানির পশু মোটাতাজা করার ক্ষেত্রে আমরা পশুকে কাঁচা ঘাস, ভুসি ও প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকি।
তিনি আরো বলেন, বিশেষ ক্ষেত্রে ক্যাটেলফিড (দানাদার) খাবার খাওয়ানো যেতে পারে। কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে স্টেরয়েড ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার না করার জন্য আমরা এলাকায় ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছি। স্থানীয় পশুর হাটগুলোতেও বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তারপরও যদি কেউ এর ব্যত্যয় ঘটায় তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।