অনেক অনেক দিন আগের কথা। বনের রাজা সিংহ হঠাত্ মারা গেল সিংহাসনের কোনো উত্তরাধিকারী না রেখেই। বনের সকল পশু এক জায়গায় জড়ো হলো একজন নতুন রাজা নির্বাচনের জন্যে।
কার মাথায় হিরকখচিত রাজমুকুটটি সবচেয়ে বেশি মানাবে সে বিষয়েই সমবেত পশুরা দীর্ঘ সময় ধরে তুমুল আলোচনা চালাল। কে রাজা হিসেবে বেশি যোগ্য হবেন সে বিষয়টি আলোচনায় একেবারেই এল না।
পশুদের মধ্যে অনেকেই মুকুটটি মাথায় পরে দেখল। তবে সেটি তাদের কারোর মাথায়ই লাগসই হলো না। কারো মাথায় ছোট হলো আবার কারো মাথায় হলো বড়। এভাবে উপস্থিত প্রায় সকল পশুই যখন একে একে বিফল হলো, তখন একটি বানর মুকুটটি পরখ করে দেখার জন্যে এগিয়ে এল। সে মুকুট হাতে নিয়ে নানাভাবে কসরত করতে লাগল। সে একবার ওটিকে কোমরবন্ধনীর মতো করে কোমরের চারপাশ বেষ্টন করে ধরল; এরপর বাহুতে জড়িয়েও নানা ভঙ্গিতে দেখল। আবার পেছনের পায়ে ভর দিয়ে খাড়া দাঁড়িয়ে মুকুটটি মাথায় চাপাল সে। অতঃপর মুকুটটিকে সার্কাসের চাকার মতো বানিয়ে বার কয়েক ওটির ভেতরে-বাইরে লাফালাফিও করল। পশুরা তার এতসব কসরত দেখে বেশ মজা পেল। তবে তারা একমত হলো যে, বানরের মাথাতেই মুকুটটি সবচেয়ে বেশি মানানসই হয়েছে।
এভাবে বানর হয়ে গেল বনের নতুন রাজা। নতুন বানর-রাজার সম্মানে বনে বেশ ধুমধামও হলো।
তবে বানরকে রাজা বানানো শেয়ালের মোটেই পছন্দ হলো না। ধূর্ত শেয়াল বানর-রাজাকে গদি থেকে নামানোর জন্যে ফন্দি আঁটতে লাগল।
এক সুন্দর সকালে শেয়াল বানর-রাজার সঙ্গে দেখা করল এবং বলল, ‘জাঁহাপনা, আমি এইমাত্র বনের এক জায়গায় কিছু গুপ্তধন দেখে এসেছি। বনের রাজা হিসেবে ওগুলো আপনারই প্রাপ্য। আমি আপনাকে ওগুলো দেখাতে চাই।
বানর খুশি হয়ে শেয়ালের সঙ্গে বনে বেরুল। সে শেয়ালের পিছুপিছু হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়ল; কিন্তু কোনো ধনের চিহ্নও দেখতে পেল না। অবশেষে টের পেল যে সে একটি ফাঁদে আটকা পড়ে গেছে।
শেয়াল মুচকি হেসে দৌড়ে বনে ফিরে গেল এবং রাজার আটক হওয়ার খবরটি পশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে দিল। এবং তাদের রাজার আটক হওয়ার স্থানে নিয়ে গেল। সে সবাইকে রাজার করুণ দশা দেখিয়ে বলল, ‘তোমরা এমন একজনকে রাজা বানিয়েছ যে কি না নিজেকেই রক্ষা করতে পারে না, আমাদেরকে রক্ষা করবে কীভাবে?’
রাজার বোকামি দেখে অন্য পশুরা শেয়ালের যুক্তি মেনে নিল এবং একমত হলো যে বানর তাদের রাজা হওয়ার যোগ্য নয়। তারা একজোট হয়ে বানরকে রাজার গদি থেকে সরিয়ে দিল।
(প্রাচীন ভারতীয় উপকথা অবলম্বনে)