প্রাণনাশের ভয় নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন হাথুরুসিংহে 

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর পালাবদলের হাওয়া ছিল দেশের প্রায় সব অঙ্গনেই। বাদ যায়নি দেশের ক্রিকেটও। বিসিবি পায় নতুন সভাপতি। 

বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান ফারুক আহমেদ। দায়িত্ব পেয়ে গত অক্টোবরের মাঝামাঝিতে প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে সরিয়ে দেন তিনি।

২০২৩ সালে ভারত বিশ্বকাপে স্পিনার নাসুম আহমেদকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ ছিল হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে। আরও কিছু আচরণগত অভিযোগে তাকে ‘কারণ দর্শানোর’ নোটিশ দিয়েছিল বিসিবি। মাত্র একদিনেই তার জবাব পাঠান হাথুরুসিংহে। কিন্তু সেটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বিসিবি চুক্তি বাতিল করে দেয়।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ‘কোড স্পোর্টস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই সময় প্রাণনাশের ভয় নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন হাথুরু। তিনি বলেন, ‘আমার উদ্দেশে বাংলাদেশের সিইওর (নিজাম উদ্দিন চৌধুরী) শেষ কথাটি ছিল, আমার চলে যাওয়া উচিত। এ ব্যাপারে বোর্ডের কাউকে কিছু বলার দরকার নেই। “আপনার কাছে কি (বিমানের) টিকিট আছে?” এটা আমার কাছে একটা সতর্কীকরণ সংকেত মনে হলো। তখনই আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম।’

বাংলাদেশের সাবেক এই কোচ আরও বলেন, ‘আমি সোজা ব্যাংকে গেলাম, বাংলাদেশ ছাড়ার জন্য টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। আমি যখন ব্যাংকে, তখন টিভিতে একটি ব্রেকিং নিউজ এল— “চন্ডিকা চাকরিচ্যুত, একজন খেলোয়াড়কে লাঞ্ছিত করেছেন”। এটা দেখে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বললেন, “কোচ, আমি আপনার সঙ্গে যাব। মানুষ আপনাকে রাস্তায় দেখে ফেললে সেটা আপনার জন্য নিরাপদ হবে না।”’

হাথুরু আরও বলেন, ‘এবার আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম। কারণ, আমাকে বাংলাদেশ থেকে বের হতে হবে। আমার এক বন্ধু আমাকে বিমানবন্দরে নিয়ে গিয়েছিলেন। আমি একটি টুপি ও হুডি পরে ছিলাম, কোনো ধরনের সুরক্ষা ছিল না। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের মধ্যরাতের ফ্লাইটে আমি বাংলাদেশ ছেড়েছিলাম।’

সেই সময় গ্রেপ্তারের শঙ্কায় ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করার জন্য তারা (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) আমাকে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করতে পারতো। সেখানে এমনও ঘটেছে যে আগের সরকারের একজন মন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রানওয়েতে বিমানটি থামানো হয়েছিল এবং তারা তাকে বিমান থেকে বের করে এনেছিল। আমার মনে তখন এসবই ঘুরপাক খাচ্ছিল।’