পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে পরিবেশ বিধ্বংসী বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার চলছেই। এতে বনের গহিনে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও মাছের পোনা প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে। ফলে বনের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সুন্দবনের ৩১ শতাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে জলাভূমি। বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের বৃহৎ অংশ জুড়ে রয়েছে মৎস্যসম্পদ। জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে ৪৫০টি নদনদী। এই নদনদীতে রয়েছে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ। এর মধ্যে রয়েছে ২৬ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৩ প্রজাতির কাঁকড়াসহ অসংখ্য জলজ প্রাণী।
সরকার প্রতি বছর এই মৎস্যসম্পদ থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে থাকেন। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে কম পরিশ্রমে অধিক মুনাফার আশায় বৈধভাবে পাশ পারমিট নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে বনের অভ্যন্তরে প্রতিটি খালে ও নদীতে পরিবেশ বিধ্বংসী বিষ প্রয়োগে করে মাছ শিকার করছে। এমনকি মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত নিষিদ্ধ খালেও। অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক চুক্তিতে এ কাজে সহযোগিতা করছেন বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মধ্য ভাটার সময় খালের একপাশে জাল পেতে অন্যপাশে বিষ দেওয়া হয়। বিষক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যে মাছগুলো ছটফট করতে করতে দুর্বল হয়ে ভাসতে ভাসতে জালে এসে আটকা পড়ে। এ কাজে সাধারণত রিপকট, ক্যারাটে, হিলডন, ওস্তাদ ও বিষ পাউডারসহ বিভিন্ন বিষ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. সুদীপ বালা বলেন, বিষমিশ্রিত মাছ খেলে সাধারণত মানুষের কিডনি, হার্ট ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে একসময়ে কিডনি ও লিভার নষ্ট হয়ে যায়। বিষমিশ্রিত পানি খেলে বিভিন্ন প্রাণীরও একই সমস্যা হতে পারে। তবে প্রাণীর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রভাব পড়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস জানান, যে খালে বা জলাশয়ে বিষ প্রয়োগ করা হয়, সে খালে কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কোনো মাছ প্রবেশ করতে পারে না। আর এভাবে চলতে থাকলে এক সময় ঐ সব খালে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস বলেন, এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি জেলের জাল ও নৌকা জব্দ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো জেলেকে আটক করা যায়নি।