প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

বাংলা

মো. সুজাউদ  দৌলা,সহকারি অধ্যাপক

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

 

প্রদত্ত অনুচ্ছেদ পড়ে ১ ও ২ নং প্রশ্নের উত্তর লেখ :

মাটির তৈরি শিল্পকর্মকে আমরা বলি মাটির শিল্প বা মৃিশল্প। এ শিল্পের প্রধান উপকরণ হলো মাটি। তবে সব মাটি দিয়ে এ কাজ হয় না। দরকার পরিষ্কার এঁটেল মাটি। এ ধরনের মাটি বেশ আঠালো। দোআঁশ মাটি তেমন আঠালো নয়। আর বেলে মাটি তো ঝরঝরে — তাই এগুলো দিয়ে মাটির শিল্প হয় না। এঁটেল মাটি হলেই যে তা দিয়ে শিল্পের কাজ করা যাবে তাও নয়। এ জন্য অনেক যত্ন আর শ্রম দরকার। দরকার হাতের নৈপুণ্য ও কারিগরি জ্ঞান। কুমারদের কাছে এসব খুব সহজ। কারণ তারা বংশ পরম্পরায় এ কাজ করে আসছে। আবার এ কাজের জন্য প্রয়োজন কিছু ছোটখাটো যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম। সবকিছুর আগে যেটা দরকার তা হলো একটা কাঠের চাকা। এই চাকায় নরম মাটির তাল লাগিয়ে নেন কুমাররা। তারপর চাকাটি জোরে ঘোরান। আর হাত দিয়ে মাটির তাল ধরেন। এভাবে নানা আকারের মাটির পাত্র ও নানা জিনিস তৈরি করেন কুমাররা।

[শখের মৃিশল্প

১.নিচের যে কোন পাঁচটি শব্দের অর্থ লেখ :        

পরিষ্কার, উপকরণ, যত্ন, প্রয়োজন, কুমোর, মৃিশল্প, নৈপুণ্য।

উত্তর :

প্রদত্ত শব্দ                 শব্দের অর্থ

পরিষ্কার                     পরিচ্ছন্ন/নির্মল।           

উপকরণ                     উপাদান।

যত্ন                            মনোযোগ।

প্রয়োজন     দরকার।     

কুমোর       মাটির তৈরি জিনিসপত্র তৈরি করেন যে।            

মৃিশল্প                     মাটি দিয়ে তৈরি শিল্পকর্ম।

নৈপুণ্য                        দক্ষতা।      

 

২. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ :                    

(ক) শিল্পকর্ম বলতে কী বোঝ?

উত্তর : আমরা যখন সুন্দর করে কোনো জিনিস আঁকি বা বানাই তখন তাকে বলে শিল্প। শিল্পের এ কাজকে বলে শিল্পকর্ম।

(খ) কুমার কারা? তারা মূলত কী কাজ করেন তিনটি বাক্যে লেখ।

উত্তর : মাটি দিয়ে পুতুল, পাত্র বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব ইত্যাদি তৈরি করা যাদের পেশা তাদেরকে কুমার বলা হয়।

কুমারেরা মূলত মাটি নিয়ে কাজ করে। তারা হাঁড়ি, পাতিল, সরা, সানকি ইত্যাদি গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করে। তা ছাড়া মাটির পাটায় নানা ধরনের নকশা, শখের জিনিস ও শিশু-কিশোরদের জন্য খেলনা বানায়।

(গ) কীভাবে কুমোরেরা মৃিশল্পকে আকর্ষণীয় করে তুলছেন, সে সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখ।

উত্তর :কুমোরেরা মৃিশল্পকে যেভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছেন, সে সম্পর্কে চারটি বাক্য নিম্নরূপ—

i. মৃিশল্পের গায়ে তারা নানা রকম নকশা করেন।

ii. মৃিশল্পে বিভিন্ন রকম রঙের ব্যবহার করেন।

iii. বাহারি রংয়ের কারুকাজ থাকে মৃিশল্পের গায়ে।

iv. মৃিশল্পগুলোতে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা হয়।