বগুড়ার নন্দীগ্রামে দেখা মিলছে জ্বালানি ছাড়াই ব্যটারিচালিত একটি ছোট আকারের পরিবেশবান্ধব মিনিবাস। চার চাকার এ গাড়িটির দুর্ঘটনার আশঙ্কা কম থাকায় স্থানীয়দের কাছেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার আঞ্চলিক সড়কের নন্দীগ্রাম-দাসগ্রাম এলাকায় এই মিনিবাস চলাচল করতে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১২ সিটের এই মিনিবাসটিতে যাত্রী বসার জন্যে ১১টি ও ড্রাইভারের জন্যে একটি সিট বরাদ্দ রয়েছে। জানালার ব্যবস্থাও রয়েছে গাড়িটিতে। এছাড়া গাড়ির সিটগুলোও বেশ আরামদায়ক। এজন্য যাত্রীরা খুব স্বাচ্ছন্দ্যেই যাতায়াত করতে পারছেন। আকারে ছোট হলেও সুবিধার দিক থেকে বেশ উন্নত এ মিনিবাসটি। ব্যাটারিচালিত হওয়ায় কোনো জ্বালানির প্রয়োজন হয় না। ফলে এটি খরচ সাশ্রয়ীও বটে। চার চাকার ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামোর কারণে দূর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামুলকভাবে অনেক কম বলেও জানিয়েছেন চালক ও স্থানীয়রা।
জানা যায়, আবু মুছা নামের এক পরিবহন উদ্যোক্তা পরিবশে দুষণের এ সময়ে এমনই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে আমিই প্রথম এই ধরণের মিনিবাস চালু করেছি। গাড়িটি তৈরি করতে মোট খরচ হয়েছে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা। এটি প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার চলে। দিনে ১ হাজার ৫শ টাকার বেশি ভাড়া উঠে থাকে। যেখানে ব্যাটারি চার্জ দিতে খরচ হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এ গাড়িটি দেখতে অনেকেই ভিড় করছেন।
মিনিবাসে যাতায়াত করা এক যাত্রী জোবায়ের রানা বলেন, আমাদের চলাফেরা অনেক সহজ হয়েছে এই গাড়িটি আসার পর। কোনো ধোঁয়া নেই। শব্দও কম। বসার সিটিগুলো বেশ ভালো। যাতায়াতের জন্যে অনেক আরামদায়ক এই মিনিবাস।
নন্দীগ্রামের বিশিষ্ট পরিবহন ব্যবসায়ী ও শিল্প-বণিক সমিতির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মাহাবুবুর রহমান বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। সরকার যদি ব্যাটারিচালিত পরিবহনে সহযোগিতা করে, তাহলে ভবিষ্যতে পরিবহনের একটি মডেল হতে পারে এটি।